
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কুয়াকাটা (পটুয়াখালী)
কুয়াকাটায় যাতায়াত সহজ করতে ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়ক উন্নয়ন প্রকল্পের দিকে এখন নজর পর্যটনসংশ্লিষ্টদের। আগামী ৩ নভেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় প্রকল্পটি উপস্থাপনের কথা জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হতে পারে বলে আশা প্রকাশ করেছেন তিনি।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) পটুয়াখালীর কুয়াকাটায় পর্যটন কার্নিভাল উপলক্ষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ তথ্য জানান মন্ত্রী। তাঁর ঘোষণায় সড়কটির উন্নয়ন নিয়ে নতুন করে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। তবে প্রকল্পের অনুমোদন, বাস্তবায়ন শুরুর সময় ও কাজ শেষ করার সময়সীমা সম্পর্কে পরবর্তী অগ্রগতির জন্য অপেক্ষা করতে হবে।
মন্ত্রী বলেন, ‘ভাঙ্গা থেকে কুয়াকাটা পর্যন্ত মহাসড়কের প্রকল্পটি ৩ নভেম্বর একনেক সভায় উঠবে। এটা পাস হয়ে গেলে তিন-চার বছর লাগার কথা নয়, সর্বোচ্চ দুই-তিন বছরের মধ্যে সড়ক উন্নয়নের কাজ শেষ হওয়ার কথা। এ সড়কটির কাজ বাস্তবায়ন হলে কুয়াকাটার জন্য বিরাট সম্ভাবনা তৈরি হবে।’
কুয়াকাটার পর্যটন সম্ভাবনা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্রদূত ও কূটনীতিকেরা বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। বিনিয়োগের সম্ভাবনাময় স্থান হিসেবে কক্সবাজার, কুয়াকাটা, সুন্দরবন, সিলেট ও সাজেকের কথা উল্লেখ করেন তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ‘বিনিয়োগকারীদের আমরা সব সময় উৎসাহিত করতে চাই। বিনিয়োগকারীদের আমরা সব ধরনের সহায়তা করতে চাই। কক্সবাজারের পর কুয়াকাটা হচ্ছে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র। কুয়াকাটার উন্নয়নে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী বলেন, ‘বর্তমান সরকার সব কর্মকাণ্ড মাস্টারপ্ল্যান নিয়ে গ্রহণ করেছে। এতে প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা কমবে। কুয়াকাটাকে আন্তর্জাতিক প্ল্যানার দিয়ে পরিকল্পনা করে সাজানোর পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি।’
শুক্রবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুয়াকাটা পর্যটন কেন্দ্রের একটি আবাসিক হোটেলের সম্মেলনকক্ষে অনুষ্ঠিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত। বাংলাদেশ পর্যটন করপোরেশনের চেয়ারম্যান মো. সামীমুজ্জামানের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকী, পটুয়াখালী-৪ (কলাপাড়া-রাঙ্গাবালী) আসনের সংসদ সদস্য এবিএম মোশাররফ হোসেন, পিরোজপুরের সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সুলতানা জেসমিন জুঁই, বরিশাল বিভাগীয় কমিশনার খলিল আহমেদ, বরিশাল জেলা পরিষদের প্রশাসক আকন কুদ্দুসুর রহমান এবং পটুয়াখালী জেলা পরিষদের প্রশাসক স্নেহাংশু সরকার কুট্রি।
এ সময় পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসক চৌধুরী আশরাফুল করিম, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামানসহ বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলার বিএনপির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।