
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
রাজনৈতিক দলের উপজেলা কমিটিতে পদ পাওয়ার অভিযোগে ভোলার চরফ্যাশনের উপসহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা মো. সফিউল্লাহ জগলুকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তের আদেশ জারির পর একই দিন সংবাদ সম্মেলন করে নিজের বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি। এতে সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা ও গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে আচরণবিধির প্রয়োগ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক মো. শাহজামান খানের স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। এর কিছুক্ষণ পর সন্ধ্যায় চরফ্যাশন প্রেসক্লাবে গণমাধ্যমকর্মীদের মুখোমুখি হন তিনি।
বিভাগীয় আদেশ সূত্রে জানা যায়, গত ৫ অক্টোবর ঘোষিত জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটিতে সফিউল্লাহ জগলুকে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদ দেওয়া হয়। সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২৫(১) বিধি অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়া বা রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। এ বিধি লঙ্ঘনের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার কথা উল্লেখ করে তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁকে তাঁর মূল কর্মস্থল লালমোহন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরে সংযুক্ত করা হয়।
তবে সফিউল্লাহ জগলুর দাবি, ভোলা জেলা এনসিপির কমিটি গঠনের সময় একই নামের একাধিক ব্যক্তি থাকায় ভুলবশত তাঁর নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তাঁর অনুমতি ছাড়াই কমিটিতে নাম দেওয়া হয় বলে দাবি করেন তিনি। চাকরির মেয়াদ আর মাত্র ছয় মাস বাকি রয়েছে উল্লেখ করে বরখাস্তের সিদ্ধান্তকে পরিবারের জন্য বড় ধাক্কা বলে বর্ণনা করেন তিনি।
এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমানও গণমাধ্যমকে জানান, ভুলবশত সফিউল্লাহ জগলুর নাম কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল। পরে তাঁরা কমিটি সংশোধন করেছেন। বিষয়টি মানবিক দৃষ্টিতে বিবেচনার জন্য প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের প্রতি অনুরোধ জানান তাঁরা।
এদিকে সরকারি কর্মচারী (আচরণ) বিধিমালা, ১৯৭৯-এর ২২ নম্বর বিধি নিয়েও আলোচনা তৈরি হয়েছে। ওই বিধিতে বিভাগীয় প্রধানের পূর্বানুমতি ছাড়া নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে বেতার বা টেলিভিশন সম্প্রচারে অংশ নেওয়া এবং সংবাদপত্র বা অন্য গণমাধ্যমে নিজের নামে লেখা প্রকাশের বিষয়ে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে এ বিধির সুনির্দিষ্ট প্রয়োগ কীভাবে হবে, তা নিশ্চিত করতে বিধিমালার ভাষা ও প্রাসঙ্গিক আইনগত ব্যাখ্যা যাচাই করা প্রয়োজন। ফলে সংবাদ সম্মেলনটিকে সরাসরি বিধি লঙ্ঘন হিসেবে চিহ্নিত করার আগে বিষয়টি আরও খতিয়ে দেখা জরুরি।
উল্লেখ্য, গত ৫ অক্টোবর এনসিপির ভোলা জেলা আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মো. জিয়াউর রহমান ও সদস্যসচিব শরীফ হাওলাদার সাগরের যৌথ স্বাক্ষরে আগামী ছয় মাসের জন্য সাত সদস্যের চরফ্যাশন উপজেলা আহ্বায়ক কমিটির আংশিক অনুমোদন দেওয়া হয়। ওই কমিটিতে সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক পদে সরকারি কর্মকর্তা সফিউল্লাহ জগলুর নাম অন্তর্ভুক্ত ছিল।