ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ৭ ঘণ্টা পর মাদরাসাশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

হোম » ভোলা » ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ৭ ঘণ্টা পর মাদরাসাশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার
শুক্রবার ● ৯ অক্টোবর ২০২৬


 

ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেওয়ার ৭ ঘণ্টা পর মাদরাসাশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)

 

ভোলার লালমোহনে ভাড়া বাসা থেকে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ নামে এক মাদরাসাশিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার (৯ অক্টোবর) ভোরে লালমোহন পৌরসভার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের একটি ভাড়া বাসা থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মৃত্যুর প্রায় সাত ঘণ্টা আগে নিজের ফেসবুক আইডিতে আত্মমর্যাদা ও ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা নিয়ে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন তিনি।

 

আবদুল্লাহ আল মাহমুদ লূৎফুন্নেছা মহিলা আলিম মাদরাসার সহকারী শিক্ষক এবং চরফ্যাশন দলিল লেখক সমিতির সাবেক সভাপতি ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর এলাকায় শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। তাঁর শেষ ফেসবুক পোস্ট ঘিরেও আলোচনা চলছে।

 

পারিবারিক ও স্থানীয় সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, দলিল লেখক সমিতির সভাপতি থাকাকালে চরফ্যাশন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ের তৎকালীন অফিস সহকারী ও লালমোহন পৌরসভার বাসিন্দা নাহিদা পারভীনের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরে আবদুল্লাহ আল মাহমুদ প্রথম স্ত্রীকে তালাক দেন। তাঁদের সংসারে দুই মেয়ে ছিল। অন্যদিকে নাহিদা পারভীনও আগের সংসারের একটি সন্তান রেখে তাঁর স্বামীকে তালাক দেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে।

 

২০২৩ সালে তাঁরা বিয়ে করেন। এরপর নাহিদা পারভীনের বাবার বাড়ির এলাকায় লালমোহনে একটি তিনতলা ভবনের ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেন তাঁরা। এ সংসারে তাঁদের একটি ছেলেসন্তান রয়েছে।

 

নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, দ্বিতীয় বিয়ের পর নাহিদা পারভীন আবদুল্লাহ আল মাহমুদকে তাঁর প্রথম পক্ষের পরিবার ও আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে দিতেন না। এ কারণে তিনি তাঁদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে পরিবারের সদস্যদের দাবি।

 

এদিকে নাহিদা পারভীনের ভাড়া বাসায় গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। তাঁর মুঠোফোনও বন্ধ থাকায় এ বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তিনি বর্তমানে তজুমদ্দিন সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অফিস সহকারী পদে কর্মরত বলে জানা গেছে।

 

লালমোহন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম মজুমদার জানান, ভোর ৬টার দিকে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ ভোলা সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

বাংলাদেশ সময়: ২১:০৭:২৫ ● ২৭ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ