নেছারাবাদে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

হোম » পিরোজপুর » নেছারাবাদে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬


 

নেছারাবাদে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় ছাত্রদল নেতাকে কুপিয়ে জখম

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, নেছারাবাদ (পিরোজপুর)

 

পিরোজপুরের নেছারাবাদে ইভটিজিংয়ের প্রতিবাদ করায় মো. ইমাম হোসেন (২৭) নামে এক ছাত্রদল নেতাকে ডেকে নিয়ে মারধর ও কুপিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগ উঠেছে। আহত ইমাম হোসেন স্বরূপকাঠী সদর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি।

 

রবিবার (৪ অক্টোবর) বিকেলে উপজেলার স্বরূপকাঠী সদর ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের অলংকারকাঠী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহত ইমাম হোসেনকে উদ্ধার করে নেছারাবাদ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) ইমামের বাবা মো. বাবুল হোসেন বাদী হয়ে সাকিব, তাঁর বড় ভাই মো. সাইফুল, বাবা মো. ওহাব আলী, মো. খোকনসহ আটজনের বিরুদ্ধে নেছারাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।

 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ইমাম হোসেন অভিযোগ করেন, সাকিব প্রায়ই অলংকারকাঠী এম আর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে স্কুল ছুটির সময় ঘোরাফেরা করতেন এবং দলবদ্ধভাবে মেয়েদের উত্ত্যক্ত করতেন। বিষয়টি তিনি কয়েকবার নিজে দেখেছেন বলেও দাবি করেন।

 

ইমাম হোসেনের ভাষ্য, রবিবার সকালে স্কুলের শিক্ষার্থীদের পথে-ঘাটে উত্ত্যক্ত করার প্রতিবাদে তিনি সাকিবকে রাস্তায় বসে একটি থাপ্পড় দিয়ে সতর্ক করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে সাকিব বিকেলে তাঁকে বাড়ি থেকে ডেকে স্কুলের কাছে নিয়ে যান। সেখানে সাকিব, তাঁর বড় ভাই সাইফুল, বাবা ওহাব আলী ও খোকন তাঁকে লাঠি দিয়ে মারধর করেন বলে অভিযোগ করেন ইমাম।

 

তিনি আরও অভিযোগ করেন, পরে খবর পেয়ে স্বরূপকাঠী শহীদ স্মৃতি ডিগ্রি কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি হাফিজুর রহমান শান্ত তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার পথে সাকিব রামদা দিয়ে তাঁর মাথার পেছনে কোপ দেন এবং চেইন দিয়ে মারধর করেন।

 

থানায় দেওয়া অভিযোগে ইমামের বাবা বাবুল হোসেন বলেন, তাঁর ছেলেকে মারধরের পাশাপাশি রামদা দিয়ে মাথার পেছনের বাম পাশে ও ডান হাতের কনুইয়ের ওপর কোপ দিয়ে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁর দুই হাতের মধ্যমা আঙুলে কামড় দেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে। পরে স্থানীয় লোকজন তাঁকে উদ্ধার করেন। এ সময় অভিযুক্তরা হত্যার হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

 

স্থানীয় ৪ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোহাম্মদ মনির হোসেন বলেন, ‘শুনেছি ইমাম কোনো একটি বিষয় নিয়ে প্রতিবাদ করেছিল। ওই ঘটনার জের ধরে রবিবার বিকেলে সাকিব তাকে মারধর করেছে।’

 

ঘটনার তদন্তকারী কর্মকর্তা নেছারাবাদ থানার উপপরিদর্শক মো. নাসির হোসেন বলেন, ‘সাকিব একটি মেয়েকে ইভটিজিং করেছিল। ইমাম বিষয়টি নিয়ে তাকে একটি থাপ্পড় দিয়েছিল। ওই ঘটনার জের ধরে সাকিব, তার বড় ভাই সাইফুল, বাবা ওহাব আলী ও স্বজন খোকন তাকে মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। অভিযোগটি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মেহেদী হাসান বলেন, ‘এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫:১৫:৪২ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ