
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় ক্রয় করা সম্পত্তি জোরপূর্বক দখলের চেষ্টা, চাষ করা কলাগাছ কেটে নেওয়া, চারা গাছ উপড়ে ফেলা এবং পুকুরের মাছ ধরতে গেলে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে কয়েকজনের বিরুদ্ধে।
এ ঘটনায় উপজেলার তালতা গ্রামের মো. সোবাহান সরদার (৫৫) আগৈলঝাড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগে মো. সরোয়ার সরদার (৫০), মো. সেলিম সরদার (৪৫), মো. হাসান সরদার (২৫), মো. এনায়েত সরদার (২০), মো. মনির হোসেন তালুকদার (৫০)সহ অজ্ঞাত আরও পাঁচ-ছয়জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ছয় বছর আগে তালতা এলাকায় একটি সম্পত্তি কিনে ধানের আবাদসহ ভোগদখল করে আসছেন সোবাহান সরদার। পরে জমি ভরাট করে টিন ও কাঠের ঘর নির্মাণ করে পরিবার নিয়ে সেখানে বসবাস করছেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
সোবাহান সরদারের অভিযোগ, অভিযুক্তরা ওই সম্পত্তির মালিকানা দাবি করে তাকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে আসছেন। এ নিয়ে আদালতে মামলা হলে আদালতের রায়ে তিনি ওই সম্পত্তিতে বসবাসের অনুমতি পান বলেও অভিযোগে উল্লেখ করেছেন তিনি।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হুমকি-ধামকির ঘটনায় এর আগে আগৈলঝাড়া থানায় এবং আগৈলঝাড়ায় অস্থায়ী সেনা ক্যাম্পে অভিযোগ করা হয়েছিল। পরে উভয় পক্ষের কাগজপত্র পর্যালোচনা করে তাকে সম্পত্তি ভোগদখলে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং অভিযুক্তদের কাছ থেকে মুচলেকা নেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন অভিযোগকারী।
সোবাহান সরদারের অভিযোগ, এরপর অভিযুক্তরা তার চাষ করা কলাগাছ থেকে ২০ ছড়ার বেশি কলা কেটে নিয়ে যায় এবং রোপণ করা কয়েকটি চারা গাছ উপড়ে ফেলে। গত ২৩ জুন সকালে নিজের চাষ করা পুকুরের কচুরিপানা পরিষ্কার করে মাছ ধরতে গেলে মোবাইল ফোনে তাকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
এ ঘটনায় সোবাহান সরদার ও তার পরিবারের সদস্যদের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য থানায় আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
আগৈলঝাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মাসুদ খান লিখিত অভিযোগ পাওয়ার কথা স্বীকার করে বলেন, ‘বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’