
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় ধানখালী মহের উদ্দিন (এমইউ) মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে একসঙ্গে ২৭ ছাত্রী, এক শিক্ষক ও এক কর্মচারী অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার ঘটনায় শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উৎকণ্ঠা এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তবে অসুস্থ ছাত্রীরা সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরায় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে নতুন করে দশম শ্রেণির ছাত্রী তনিমা অসুস্থ হয়ে পড়েছে। তাকে বেলা ১১টার দিকে কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। একসঙ্গে এত শিক্ষার্থী অসুস্থ হয়ে পড়ার ঘটনায় স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনতে বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুর দেড়টার দিকে শ্রেণি কার্যক্রম চলাকালে প্রথমে নবম শ্রেণির এক ছাত্রী অসুস্থ হয়ে পড়ে। বিদ্যালয়ের সিঁড়িতে থাকা অবস্থায় তার শ্বাসকষ্ট শুরু হয়। এরপর একে একে আরও শিক্ষার্থীরা অসুস্থ হয়ে পড়ে। সন্ধ্যা পর্যন্ত অন্তত ২৭ ছাত্রীকে হাসপাতালে এনে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
অসুস্থ শিক্ষার্থীদের মধ্যে দশম শ্রেণির সাতজন, নবম শ্রেণির আটজন, অষ্টম শ্রেণির ছয়জন, সপ্তম শ্রেণির দুজন, ষষ্ঠ শ্রেণির তিনজন এবং সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির একজন রয়েছে। পরে বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারীও অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
সংলগ্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক আসাদুজ্জামান সোহাগ জানান, কয়েকজন শিক্ষার্থী অসুস্থ হওয়ার পর তাদের তাৎক্ষণিকভাবে বিদ্যালয় থেকে তিন-চার কিলোমিটার দূরে কলেজ বাজারের চিকিৎসকদের কাছে নেওয়া হয়। পরে দ্রুত তাদের কলাপাড়া উপজেলা হাসপাতালে নেওয়া হয়।
সন্তানদের হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ার দৃশ্য দেখে অনেক অভিভাবক কান্নায় ভেঙে পড়েন। এতে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়। তবে অধিকাংশ অসুস্থ শিক্ষার্থী রাতেই চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
একাধিক শিক্ষক জানান, শ্রেণি কার্যক্রমের মাঝখানে দুপুরের বিরতির সময় একে একে ছাত্রীরা অসুস্থ হতে শুরু করে।
কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. টেন মং বলেন, চিকিৎসাবিজ্ঞানে এ ধরনের ঘটনাকে ‘মাস সাইকোজেনিক ইলনেস’ বলা হয়। একজনকে অসুস্থ হতে দেখে অন্যজনের মধ্যেও মানসিক প্রভাবের কারণে একই ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে। এতে আতঙ্কিত হওয়ার তেমন কিছু নেই। অসুস্থ সবাইকে যথাযথ চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। অধিকাংশই দ্রুত সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বৃহস্পতিবার হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ছাত্রীকেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।