
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)
ভোলার মনপুরায় মেঘনা নদীর পাড় থেকে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা অবস্থায় এক যুবককে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেছেন স্থানীয়রা। স্বজনদের দাবি, তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে বেঁধে রাখা হয়েছিল।
বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টায় উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের চৌধুরী বাজারের পূর্ব পাশের মেঘনাপাড় থেকে ওই যুবককে মুমূর্ষু অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। পরে তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া যুবকের নাম মো. শান্ত (২৫)। তিনি উপজেলার হাজিরহাট ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা শাহাবুদ্দিনের ছেলে।
স্থানীয়রা জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে লিটন মাঝি কয়েকজন জেলেকে নিয়ে মেঘনা নদীতে মাছ শিকার শেষে নৌকা নিয়ে তীরে নোঙর করেন। এ সময় তারা মানুষের গোঙানির শব্দ পান। টর্চের আলো জ্বালিয়ে খোঁজার একপর্যায়ে নদীর পাড়ে একটি খুঁটির সঙ্গে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বাঁধা, কাদামাখা এক ব্যক্তিকে দেখতে পান। এরপর রশি কেটে তাঁকে উদ্ধার করেন এবং শান্তকে শনাক্ত করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাঁকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
উদ্ধারকারী লিটন মাঝি বলেন, ‘নদীর পাড়ে গোঙানির শব্দ শুনে টর্চের আলো ফেলতেই দেখি, রশি দিয়ে মুখ ও হাত-পা বাঁধা অবস্থায় কাদামাখা একজন পড়ে আছে। পরে হাত-পা ও মুখের রশি কেটে দেখি, তিনি পরিচিত যুবক শান্ত। তখন সবার সহযোগিতায় তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।’
বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) ভোররাত ৪টার দিকে শান্তের অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।
শান্তের মামা মিরাজ বলেন, ‘আর কিছুক্ষণ নদীর পাড়ে বাঁধা অবস্থায় থাকলে জোয়ারের পানিতে ডুবে আমার ভাগ্নে মারা যেত। পরিকল্পিতভাবে শান্তকে হত্যার জন্য নদীর পাড়ে রশি দিয়ে হাত-পা ও মুখ বেঁধে রাখা হয়েছিল।’ তবে কারা তাঁকে হত্যার উদ্দেশ্যে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল, সে বিষয়ে তিনি কিছু জানাননি। তিনি বলেন, উন্নত চিকিৎসার জন্য শান্তকে ঢাকায় নেওয়া হচ্ছে। ফিরে এসে বিস্তারিত জানাবেন।
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি সব দিক বিবেচনা করে পুলিশ তদন্ত করছে। তদন্তের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’