
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধান জাহাঙ্গীর মোড়লসহ ১২ জন কোস্ট গার্ডের কাছে অস্ত্র ও গোলাবারুদ জমা দিয়ে আত্মসমর্পণ করেছেন। কোস্ট গার্ড জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোংলার ধানসিদ্ধির চর এলাকায় অভিযানকালে তাঁরা আত্মসমর্পণ করেন।
বৃহস্পতিবার কোস্ট গার্ড পশ্চিম জোন সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে বাহিনীটির মুখপাত্র কমান্ডার মো. মানসুরুন মাহ্দীন এ তথ্য জানান।
কোস্ট গার্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, আত্মসমর্পণের সময় ১২ জনের কাছ থেকে ১টি এইট শুটার, ১টি সিক্স শুটার, ১টি ফোর শুটার, ১টি সাইড হ্যামার, ১টি বোল্ট অ্যাকশন পিস্তল, ২টি এমথ্রি গ্যাস গান, ২টি ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তল, ২টি ওয়ান শুটার ও ২টি এয়ারগান জমা দেওয়া হয়।
এ ছাড়া ২১২ রাউন্ড তাজা কার্তুজ, ২৯ রাউন্ড ফাঁকা কার্তুজ, ২০ রাউন্ড ৭ দশমিক ৬৫ মিলিমিটার পিস্তলের গুলি, ৫ রাউন্ড ৮ মিলিমিটার তাজা গোলা, ৪১৩ রাউন্ড এয়ারগানের গুলি, চারটি পিস্তল ম্যাগাজিন, দুটি এয়ারগান ম্যাগাজিন এবং চার্জারসহ ছয়টি ওয়াকিটকি পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে কোস্ট গার্ড।
আত্মসমর্পণকারীদের মধ্যে খুলনার পাইকগাছা ও ডুমুরিয়া এলাকার সাইফুল্লাহ মোড়ল, এখলাছুর রহমান, রবিউল ইসলাম, মফিজুল ইসলাম, আজিম উদ্দিন গাজী ও আব্দুর রহমান শেখ রয়েছেন। সাতক্ষীরার শ্যামনগরের শফিকুল ইসলাম, মিন্টু গাজী, আজিজুল গাজী ও শাহজাহান মালী এবং বাগেরহাটের রামপালের আজিজুর রহমানও তাঁদের সঙ্গে আত্মসমর্পণ করেছেন।
কোস্ট গার্ডের দাবি, দলটি সুন্দরবনে জেলে ও বাওয়ালিদের জিম্মি করে মুক্তিপণ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত ছিল।
কমান্ডার মানসুরুন মাহ্দীন জানান, সুন্দরবনকে জলদস্যুমুক্ত করতে ‘অপারেশন রিস্টোর পিস ইন সুন্দরবন’ ও ‘অপারেশন ম্যানগ্রোভ শিল্ড’ নামে দুটি বিশেষ অভিযান চলছে। এসব অভিযানে এ পর্যন্ত ২৯ জন বনদস্যুকে আটক এবং জিম্মিদশা থেকে ৪২ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এর আগে ছোট সুমন, বড় জাহাঙ্গীর ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর ৩৭ সদস্যও আত্মসমর্পণ করেছেন বলে কোস্ট গার্ড জানিয়েছে। বাহিনীর পক্ষ থেকে সুন্দরবনের অন্য সক্রিয় দস্যুদের আত্মসমর্পণ করে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার আহ্বান জানানো হয়েছে।