ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা

হোম » বিশেষ প্রতিবেদন » ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ৪ শতাধিক শিক্ষার্থীর পাঠদান, আতঙ্কে শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা
বুধবার ● ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬


 

মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতল ভবন।

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)

 

ছাদের পলেস্তারা খসে পড়ছে, বেরিয়ে এসেছে রড। দেয়াল ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে বিভিন্ন স্থানে। স্যাঁতসেঁতে মেঝে ও বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ায় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে ভবনটি। এমন পরিস্থিতিতে ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতল ভবনে প্রতিদিন পাঠদান চলছে ৪৮৭ জন শিক্ষার্থীর। এতে আতঙ্কে রয়েছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা।

 

মাদ্রাসার ভারপ্রাপ্ত সুপার মাওলানা এয়াকুব আলী হান্নান বলেন, মাদ্রাসার একমাত্র দ্বিতল ভবনটি দীর্ঘদিন ধরে ঝুঁকিপূর্ণ ও ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বাধ্য হয়ে এই ভবনেই পাঠদান কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকতে হয়। বর্ষাকালে ছাদ থেকে প্রতিদিন পানি চুঁইয়ে পড়ে। মাদ্রাসার জন্য নতুন ভবন প্রয়োজন। বিষয়টি একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।

 

সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনের বিভিন্ন স্থানে ছাদের পলেস্তারা খসে পড়েছে। পিলার ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে গিয়ে বেরিয়ে এসেছে রড। ভবনটির বারান্দাসহ চারপাশের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। বৃষ্টির সময় ছাদ থেকে পানি চুঁইয়ে পড়ে এবং বিভিন্ন স্থানে পলেস্তারা খসে পড়ছে।

 

দশম শ্রেণির ছাত্রী আলিসা আক্তার জিনুক বলে, আমরা প্রতিদিন এই ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে ক্লাস করি। ভবনের অবস্থা দেখে ভয় লাগে। পড়ালেখায় মনোযোগ দিতে পারি না, যার প্রভাব পরীক্ষাতেও পড়ে। ছাদ ও পিলারের পলেস্তারা খসে পড়েছে। বৃষ্টির পানি চুঁইয়ে পড়ে বই-খাতা ভিজে যায়।

 

নবম শ্রেণির ছাত্রী আকলিমা আক্তার রিংকু বলে, ক্লাস করার সময় অনেক সময় মনে হয় ভবনের কোনো অংশ ভেঙে পড়তে পারে। এতে আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। নিরাপদ শ্রেণিকক্ষের ব্যবস্থা করার জন্য কর্তৃপক্ষের কাছে দাবি জানাই।

 

জানা গেছে, ১৯৯৩ সালের ১ জানুয়ারি মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠিত হয়। বর্তমানে প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান করা হয়। প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৮৭ জন শিক্ষার্থী, ১৫ জন শিক্ষক-শিক্ষিকা এবং পাঁচজন কর্মচারী রয়েছেন। মাদ্রাসায় একটি ঝুঁকিপূর্ণ ও জরাজীর্ণ দ্বিতল ভবন এবং একটি টিনশেড ভবন রয়েছে।

মনপুরার উত্তর সাকুচিয়া মহিলা দাখিল মাদ্রাসার জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ দ্বিতল ভবন।

 

সহকারী শিক্ষক আব্দুর রহিম মোল্লা ও সিনিয়র শিক্ষক মাওলানা মিজান সাগরকন্যার এ প্রতিবেদককে বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করাতে গিয়ে আমরা সবসময় আতঙ্কের মধ্যে থাকি। ভবনটির বর্তমান অবস্থা শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। দ্রুত সংস্কার বা নতুন ভবন নির্মাণ করা না হলে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। তাই দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণের দাবি জানান তারা।

 

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. রেজাউল করিম বলেন, এ মুহূর্তে আমার কাছে কোনো বাজেট নেই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানান। আমি সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব।

 

মনপুরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খান সালমান হাবীব বলেন, বিষয়টি আমরা অবগত হয়েছি। জেলা প্রশাসক এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলেছেন। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:০৬:১৫ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ