কলাপাড়ায় ইউপি ট্যাক্সের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় ইউপি ট্যাক্সের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ
বৃহস্পতিবার ● ২৭ আগস্ট ২০২৬


 

কলাপাড়ায় ইউপি ট্যাক্সের টাকা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে চলতি বছরের ট্যাক্স আদায় ও জমা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশদের দাবি, ইউনিয়নের নয়টি ওয়ার্ডে ৯ লাখ টাকার বেশি ট্যাক্স আদায় হলেও পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। আদায় করা অর্থের বাকি অংশ কোথায় গেছে, তা নিয়ে পরিষদ সংশ্লিষ্টদের মধ্যে প্রশ্ন ও ক্ষোভ তৈরি হয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র ও পরিষদ সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদ পরিচালনার জন্য উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাহিদুল ইসলামকে প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়। চলতি বছর ইউনিয়নের খানা ট্যাক্স আদায়ের কাজ নির্দিষ্ট কমিশনের বিনিময়ে তৃতীয় একটি পক্ষকে দেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে ট্যাক্স আদায়ের পর সংগৃহীত অর্থ ও হিসাব পরিষদ সচিবের কাছে বুঝিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়।

 

তবে ট্যাক্স আদায়ের পরিমাণ এবং পরিষদের হিসাবে জমা হওয়া অর্থের মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন ইউপি সদস্য ও গ্রাম পুলিশরা। তাদের ভাষ্য, নয়টি ওয়ার্ড থেকে ৯ লাখ টাকার বেশি আদায় হলেও পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে মাত্র ৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা। ফলে বাকি অর্থের হিসাব নিয়ে তাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

 

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন গ্রাম পুলিশ বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের ট্যাক্সের অর্থ থেকে তাদের বেতনসহ বিভিন্ন ব্যয় নির্বাহ করা হয়। তাই আদায় করা অর্থের পূর্ণাঙ্গ হিসাব পরিষদের হিসাবে জমা হয়েছে কি না, তা পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন। অভিযোগটির সুষ্ঠু তদন্তও দাবি করেন তারা।

 

নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব মো. হাসনাত টিটু বলেন, ‘রিসিভে যে পরিমাণ টাকা পেয়েছি, সেটিই পরিষদের হিসাবে জমা দিয়েছি। এর বাইরে আমি কিছু জানি না।’ তৃতীয় পক্ষের কাছ থেকে টাকা ও হিসাব বুঝে নেওয়ার সময় ইউপি সদস্য বা গ্রাম পুলিশদের অবহিত করা হয়নি কেন, জানতে চাইলে তিনি এর স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে পারেননি। তবে বিষয়টি প্রশাসক অবগত আছেন বলে জানান তিনি।

 

ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক মো. নাহিদুল ইসলাম বলেন, ‘এ বিষয়ে সচিব বলতে পারবেন। তৃতীয় পক্ষ সচিবকে যে হিসাব দিয়েছে, তার পরিমাণ হয়তো সাড়ে পাঁচ লাখ টাকার মতো। প্রকৃতপক্ষে কত টাকা আদায় হয়েছে, সেটা তৃতীয় পক্ষ ও গ্রাম পুলিশ বলতে পারবে। আমরা ট্যাক্স সংগ্রহের জন্য চুক্তিবদ্ধ তৃতীয় পক্ষের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছি। আবারও তাদের কাছে ব্যাখ্যা চাওয়া হবে। বিধিবহির্ভূত কিছু হয়ে থাকলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

 

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আরিফুজ্জামান বলেন, ‘বাকি টাকাগুলো কোথায় গেছে, সেটা জানতে হবে।’ অভিযোগের বিষয়ে তিনি নীলগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করে দেখবেন বলে জানান।

বাংলাদেশ সময়: ২১:৩২:০৭ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ