
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় পায়রা বন্দরের আন্ধারমানিক নদীর ওপর নির্মাণাধীন অত্যাধুনিক আইকনিক ফোরলেন সেতুর নির্মাণকাজ শেষের পথে। ইতোমধ্যে সেতুটির প্রায় ৯৪ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী অক্টোবরের মধ্যে মূল অবকাঠামোর কাজ শেষ করে মাসের শেষদিকে যানবাহন চলাচলের উপযোগী করার লক্ষ্য রয়েছে। পুরো নির্মাণকাজ নভেম্বরে শেষ হওয়ার কথা।
প্রায় ১ হাজার ১৮০ মিটার দীর্ঘ সেতুটির পাইলিং কাজ শুরু হয় ২০২৪ সালের মার্চে। ওই বছরের ১২ মার্চ পায়রা বন্দর কর্তৃপক্ষের তৎকালীন চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আবদুল্লাহ আল মামুন চৌধুরী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দরের চারিপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে নির্মিত প্রথম টার্মিনালের সঙ্গে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়কের সরাসরি সড়ক যোগাযোগ স্থাপিত হবে।
পায়রা বন্দর সূত্রে জানা গেছে, প্রায় ৯৫০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত হচ্ছে সেতুটি। বন্দরের সিক্সলেন সড়কের সঙ্গে যুক্ত এই সেতুর মাধ্যমে ঢাকা-কুয়াকাটা মহাসড়ক থেকে সরাসরি পায়রা বন্দরের প্রথম টার্মিনালে পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি হবে। এতে বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও সহজ ও দ্রুত হবে। একই সঙ্গে বন্দরকেন্দ্রিক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ডেও গতি বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
সেতুটির নির্মাণকাজ করছে চীনের চায়না রেলওয়ে ব্রিজ কনস্ট্রাকশন গ্রুপ এবং চায়না সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন করপোরেশন। নির্মাণকাজে কোরিয়ান একটি পরামর্শক প্রতিষ্ঠান তত্ত্বাবধান করছে।
আন্ধারমানিক নদীর নাব্যতা বজায় রাখা এবং নদীপথে জাহাজ ও লঞ্চ চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বিশেষ পদ্ধতিতে সেতুটি নির্মাণ করা হচ্ছে। এক্সট্রা ডোজড পদ্ধতিতে নদীর ওপর মাত্র দুটি পিয়ার স্থাপন করে সেতুটির কাঠামো নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে নদীর মূল অংশে একাধিক পিলার বা পাইল স্থাপনের প্রয়োজন হয়নি।
নির্মাণাধীন সেতুটির নান্দনিক কাঠামো ইতোমধ্যে স্থানীয় বাসিন্দা ও দর্শনার্থীদের আকৃষ্ট করেছে। প্রতিদিন অনেকে সেতু এলাকা দেখতে সিক্সলেন সড়কে ভিড় করছেন। তাঁরা নির্মাণশৈলী দেখার পাশাপাশি ছবি তুলছেন।
পায়রা বন্দরের সহকারী প্রকৌশলী (সিভিল) তাজহার কবির সেতুটির নির্মাণকাজের অগ্রগতি ও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করার পরিকল্পনার তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
সেতুটি চালু হলে চারিপাড়ায় রাবনাবাদ চ্যানেলের তীরে নির্মিত প্রথম টার্মিনাল থেকে পণ্য সরাসরি সড়কপথে ঢাকা ও দেশের অন্যান্য অঞ্চলে পরিবহন করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি বিনিয়োগকারী ও সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের সড়কপথে পায়রা বন্দরের টার্মিনালে সরাসরি যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, সেতুটি চালু হলে পায়রা বন্দরের সঙ্গে জাতীয় মহাসড়কের যোগাযোগ আরও শক্তিশালী হবে। এতে পণ্য পরিবহন সহজ হওয়ার পাশাপাশি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সম্প্রসারণ এবং বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ক্ষেত্রে নতুন গতি তৈরি হতে পারে। তবে সেতুটির পূর্ণাঙ্গ ব্যবহার শুরু হতে নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পর প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।