নাজিরপুরে রাস্তার ওপর বাঁশের সাঁকো, বর্ষায় চরম দুর্ভোগে বানিয়ারী গ্রামের মানুষ

হোম » পিরোজপুর » নাজিরপুরে রাস্তার ওপর বাঁশের সাঁকো, বর্ষায় চরম দুর্ভোগে বানিয়ারী গ্রামের মানুষ
বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬


 

নাজিরপুরে রাস্তার ওপর বাঁশের সাঁকো, বর্ষায় চরম দুর্ভোগে বানিয়ারী গ্রামের মানুষ

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

 

দেখে মনে হতে পারে এটি কোনো খাল বা নালার ওপর নির্মিত বাঁশের সাঁকো। কিন্তু বাস্তবে এটি একটি রাস্তা। পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের কাঁচা সড়কটি বর্ষার পানিতে ও কাদায় এমনই বেহাল হয়ে পড়েছে যে, চলাচলের জন্য স্থানীয়দের রাস্তার ওপরই বাঁশের সাঁকো নির্মাণ করতে হয়েছে। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন এলাকাবাসী।

 

সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তাজুড়ে হাঁটুসমান কাদা জমে আছে। মাঝখানে সৃষ্টি হয়েছে নালার মতো গভীর অংশ। ফলে পায়ে হেঁটে চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ায় স্থানীয়রা বাধ্য হয়ে রাস্তার ওপর বাঁশের সাঁকো তৈরি করে সেটির ওপর দিয়ে যাতায়াত করছেন।

 

স্থানীয়দের জানান, মাটিভাঙ্গা ইউনিয়নের বানিয়ারী গ্রামের অধিকাংশ সড়কই এখনো কাঁচা। এর মধ্যে ৮ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ বানিয়ারী খানবাড়ী মসজিদ থেকে ভিটাবাড়ী এলাকার জাহিদুলের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার এবং ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ময়দানের পূর্ব পাশ থেকে রেজ্জাক খানের বাড়ি পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার সড়ক সম্পূর্ণ চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। বর্ষা শুরু হলেই এসব সড়কে হাঁটুসমান কাদা জমে যায়।

 

৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কাইয়ুম ফকির বলেন, ‘বর্ষাকাল এলেই আমরা চরম দুর্ভোগে পড়ি। বিশেষ করে স্কুলগামী শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি সবচেয়ে বেশি। এছাড়া এলাকায় অনেক সবজির ঘের রয়েছে। উৎপাদিত সবজি পাশের দিঘীরজান বাজারে নিতে কৃষকদের ব্যাপক সমস্যায় পড়তে হয়।’

 

৮ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য জুয়েল আহম্মেদ উজ্জ্বল বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে এই কাঁচা রাস্তার কারণে মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। বিভিন্ন দপ্তরে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো ফল পাওয়া যায়নি। তবে স্থানীয় বিএনপি নেতা সরদার সাফায়েত হোসেন শাহীন ব্যক্তিগত উদ্যোগে প্রায় ৪০০ ফুট সড়কে বালু ভরাট করে দিয়েছেন।’

 

মাটিভাঙ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জাহিদুল ইসলাম বিলু বলেন, ‘বানিয়ারীর এই কাঁচা রাস্তা দীর্ঘদিনের সমস্যা। বিভিন্ন সময়ে উন্নয়নের জন্য বরাদ্দ চেয়েছি, কিন্তু এখনো পাইনি।’ তিনি দ্রুত সড়কটি সংস্কারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।

 

এ বিষয়ে নাজিরপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. সালাহউদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ‘রাস্তার উন্নয়ন প্রকল্পের তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পাওয়া গেলেই কাজ শুরু করা হবে।’

 

স্থানীয়দের দাবি, প্রায় তিন কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়ক দিয়ে দুটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দুটি মাদ্রাসা এবং একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা নিয়মিত যাতায়াত করে। বর্ষা মৌসুম এলেই তাদের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছে। তাই জনদুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সড়কটি সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।

বাংলাদেশ সময়: ৭:২২:১৫ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ