বরগুনায় মরদেহ নিতে গিয়ে স্বজনদের হাতাহাতি, গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ

হোম » বরগুনা » বরগুনায় মরদেহ নিতে গিয়ে স্বজনদের হাতাহাতি, গৃহবধূকে হত্যার অভিযোগ
বুধবার ● ৫ আগস্ট ২০২৬


 

বরগুনায় মর্গ থেকে গৃহবধূর মরদেহ নিতে গিয়ে দুই পক্ষের হাতাহাতি

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, তালতলী (বরগুনা)

 

বরগুনার তালতলীতে গ্যাস ট্যাবলেট খেয়ে এক গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনায় ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ নিতে গিয়ে নিহতের স্বজন ও শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। নিহতের পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয়, পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।

 

মঙ্গলবার দুপুর আড়াইটার দিকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ ও স্থানীয়দের হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

 

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই বিরোধ চলত। গত সোমবার রিমা নামের ওই গৃহবধূকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়া অবস্থায় উদ্ধার করে প্রথমে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

 

নিহতের স্বজনদের অভিযোগ, রিমাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে। এ অভিযোগের পর তালতলী থানা পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।

 

স্বজনদের দাবি, মরদেহ মর্গে রেখে রিমার স্বামী ইউসুফ ও তার পরিবারের সদস্যরা কাউকে কিছু না জানিয়েই চলে যান। প্রায় দুই ঘণ্টা পর তারা আবার মর্গে এলে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয়।

 

নিহতের স্বজন আবু বকর বলেন, ‘আমরা শুনেছি রিমাকে মেরে ফেলা হয়েছে। কিন্তু পুলিশকে ম্যানেজ করে অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। পরে আমরা ময়নাতদন্তের আবেদন করলে মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু মরদেহ রেখেই রিমার স্বামী দ্রুত চলে যায়।’

 

রিমার ভাই মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি দূরে ছিলাম। মোবাইল ফোনে জানতে পেরেছি আমার বোনকে গ্যাস ট্যাবলেট খাওয়ানো হয়েছে। দুই একদিন আগেও তাকে মারধর করা হয়েছিল। তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।’

 

তবে অভিযোগের বিষয়ে তালতলী থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইদুল ইসলাম বলেন, ‘হত্যা নাকি আত্মহত্যা, প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের জন্যই মরদেহের ময়নাতদন্ত করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেলে প্রকৃত ঘটনা জানা যাবে।’

 

তিনি আরও বলেন, এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ করেননি।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৫৫:২৩ ● ১৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ