ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

হোম » পিরোজপুর » ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২
বুধবার ● ৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬


ভাণ্ডারিয়ায় ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে টাকা নেওয়ার অভিযোগ, গ্রেপ্তার ২

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, পিরোজপুর

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়ায় এক ব্যবসায়ীকে জিম্মি করে মারধর, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং ব্যাংক ও মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬০০ টাকা নেওয়ার অভিযোগে মামলা হয়েছে। এ মামলায় ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদলের নেতা মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী আসাদুল ইসলাম (৩৫) এ ঘটনায় ভাণ্ডারিয়া থানায় মামলা করেন। তিনি বাগেরহাটের কচুয়া উপজেলার শিরোখালী গ্রামের আশ্রাব আলীর ছেলে এবং পেশায় ভাঙারি ব্যবসায়ী।

মামলার এজাহার অনুযায়ী, গত ২ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে ভাঙারি মালামাল কেনার উদ্দেশ্যে সুমন নামে এক ব্যবসায়ীর সঙ্গে দেখা করতে ভাণ্ডারিয়া পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের ওভারব্রিজ এলাকায় যান আসাদুল ইসলাম। সেখানে সুমনের সঙ্গে মোবাইলে যোগাযোগ করলে তিনি ব্যস্ত থাকার কথা জানিয়ে সাগর নামে এক ব্যক্তিকে পাঠান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আসাদুল ইসলামের অভিযোগ, সাগর তাঁকে গোডাউনে নেওয়ার কথা বলে উপজেলার ধাওয়া এলাকার গোড়াখাল নামের একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যান। সেখানে পরিস্থিতি সন্দেহজনক মনে হলে তিনি মোটরসাইকেল থেকে লাফ দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন।

এ সময় আগে থেকে অবস্থান করা ধাওয়া ইউনিয়ন বিএনপির ৩ নম্বর যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, সাবেক ভাণ্ডারিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, ধাওয়া ইউনিয়ন যুবদল নেতা মো. রুবেল হাওলাদার, মো. সোহাগ মৃধাসহ কয়েকজন তাঁকে ঘিরে ফেলেন বলে অভিযোগ করেন আসাদুল ইসলাম।

অভিযোগে আরও বলা হয়, স্থানীয় দোকানদারদের কাছে সাহায্য চাইলে তাঁকে মারধর করে মোটরসাইকেলের চাবি নিয়ে মশিউর রহমান টিটু হাওলাদারের বাড়িতে নেওয়া হয়। সেখানে আটকে রেখে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করা হয়।

আসাদুল ইসলামের দাবি, জিম্মি অবস্থায় তাঁর মোবাইল কেড়ে নিয়ে অবৈধ মালামালের ছবি পাঠানো হয় এবং সেসব ছবি ব্যবহার করে সামাজিকভাবে হেয় করার ভয় দেখানো হয়। পরে তাঁর মোবাইল, মানিব্যাগ, পাঁচটি ব্যাংক চেক, দুটি এটিএম কার্ড, জাতীয় পরিচয়পত্র ও নগদ ২২ হাজার টাকা নেওয়া হয় বলে অভিযোগ তাঁর।

এ ছাড়া বিকাশ থেকে ২ হাজার ২০০ টাকা, নগদ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকা, সিটি ব্যাংকের এটিএম কার্ড ব্যবহার করে ১ লাখ ১০ হাজার টাকা উত্তোলন এবং মোবাইল ব্যাংকিং অ্যাপের মাধ্যমে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের একটি হিসাবে ১ লাখ ৮৭ হাজার টাকা স্থানান্তর করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

অভিযুক্ত আসাদুজ্জামান পলাশ কাজী, মশিউর রহমান টিটু হাওলাদার, মো. রুবেল হাওলাদার, অরুণ বৈরাগী, সুকান্ত, সুমন ও সঞ্জয়ের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

ভাণ্ডারিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) রত্নেশ্বর কুমার মন্ডল বলেন, এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। মো. সোহাগ মৃধা ও মো. সোহাগ হাওলাদারকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ২২:১০:২৮ ● ২৩ বার পঠিত




আর্কাইভ