
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলায় রেকর্ডীয় ভূমির মালিকদের চাষাবাদে বাধা, ভয়ভীতি, হামলা ও হয়রানির অভিযোগে মানববন্ধন করেছেন কয়েক হাজার ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। বুধবার সকাল সাড়ে ১১টায় উপজেলা পরিষদ চত্বরে মানববন্ধন শেষে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও পটুয়াখালীর জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেন তারা।
জে.এল. নম্বর ৯৬-এর চরভূপেন্দ্র, জে.এল. নম্বর ৯৭-এর ভোলাইশিংয়ের চর ত্রৈলোক্য এবং জে.এল. নম্বর ৯৮-এর পাঁচখালী মৌজার রেকর্ডীয় ভূমির মালিক ও তাদের পরিবারের সদস্যরা মানববন্ধনে অংশ নেন। এ সময় তারা ধানের অঙ্কুরিত বীজভর্তি ঝুড়ি প্রদর্শন করেন। অংশগ্রহণকারীদের দাবি, চাষাবাদে বাধার কারণে সময়মতো ধানের বীজ রোপণ করতে না পারায় প্রায় ৪০ মণ বীজ নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে।
স্মারকলিপিতে ভুক্তভোগীরা দাবি করেন, নদীভাঙনের পর পুনরায় চর জেগে উঠলে তারা আইন অনুযায়ী নিয়মিত খাজনা পরিশোধ করে ওই জমিতে বসতবাড়ি নির্মাণ ও কৃষিকাজ করে আসছেন। তবে কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তি, দালাল ও সন্ত্রাসীচক্র জমি দখলের উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে তাদের বৈধ চাষাবাদে বাধা দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে মারধর, প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হয়রানি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, দশমিনা সদরের মোল্লা পরিবারের রুহুল মোল্লার নেতৃত্বে সৈয়দ জাফর, আরজবেগী এলাকার জাহিদ শিকদার, তহিদ শিকদার, এনায়েত গাজী ও সাকুসহ একটি সংঘবদ্ধ চক্র চরাঞ্চলের জমি দখলের চেষ্টা করছে। তাদের অভিযোগ, প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখাতে ও হামলা করতে ওই চক্র সন্ত্রাসী বাহিনী ব্যবহার করছে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, ‘আমরা রেকর্ডীয় ও প্রকৃত ভূমির মালিক। অথচ নিজেদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে পারছি না। প্রায় ৪০ মণ ধানের বীজ নষ্ট হওয়ার পথে। দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করে আমাদের নিরাপদে চাষাবাদের পরিবেশ নিশ্চিত করতে হবে।’
তারা আরও অভিযোগ করেন, কয়েকদিন আগে প্রতিপক্ষের একটি মানববন্ধনের পর তাদের ওপর হুমকি-ধমকি বেড়েছে। এতে অনেকেই ভয়ে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা ও বাজারে যেতেও সাহস পাচ্ছেন না।
মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল করেন অংশগ্রহণকারীরা। এ সময় তারা ‘সন্ত্রাসের কালো হাত ভেঙে দাও, গুঁড়িয়ে দাও’, ‘অবৈধভাবে জমি দখল করে তরমুজ চাষ করতে দেওয়া যাবে না’ এবং ‘আমরা আমাদের জমিতে ধানের বীজ রোপণ করতে চাই’- এমন স্লোগান দেন।
পরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও জেলা প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। এতে অভিযোগের তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ, রেকর্ডীয় মালিকদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত এবং বৈধ মালিকদের শান্তিপূর্ণভাবে জমি ভোগদখল ও কৃষিকাজের সুযোগ নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।