আগৈলঝাড়ায় থানা ঘেরাও, পুলিশ-স্বজন সংঘর্ষে আহত ৬

হোম » বরিশাল » আগৈলঝাড়ায় থানা ঘেরাও, পুলিশ-স্বজন সংঘর্ষে আহত ৬
বৃহস্পতিবার ● ৯ জুলাই ২০২৬


 

প্রতীকী চিত্র

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

 

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় রিয়াজ ফকির নামে এক যুবককে পুলিশি হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগকে কেন্দ্র করে থানা ঘেরাও করেন তার স্বজনরা। এ সময় পুলিশ ও স্বজনদের মধ্যে সংঘর্ষে তিন পুলিশ সদস্যসহ ছয়জন আহত হন। বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) বিকেলে আগৈলঝাড়া থানায় এ ঘটনা ঘটে।

 

অভিযোগ রয়েছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে আগৈলঝাড়া থানা পুলিশ উপজেলার ফুল্লশ্রী গ্রামের সিদ্দিক ফকিরের ছেলে রিয়াজ ফকিরকে আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরিবারের দাবি, তাকে রাতভর মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দিয়ে নির্যাতন করা হয়েছে। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

 

সংঘর্ষে আহতরা হলেন- আগৈলঝাড়া থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) ওমর ফারুক, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) আব্দুল হালিম, কনস্টেবল ফরহাদ, রিয়াজের দাদি মমতাজ বেগম, বড় বোন শারমিন ও চাচা কাঞ্চন ফকির। স্বজনদের অভিযোগ, পুলিশের লাঠিচার্জে মমতাজ বেগমের হাত ভেঙে গেছে।

 

আগৈলঝাড়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) সুশংকর মল্লিক বলেন, বিকেলে ২০-২৫ জন নারী-পুরুষ থানার গেটে এসে হামলা ও ভাঙচুর চালায়। বাধা দিতে গেলে তারা পুলিশের ওপর হামলা করে। এতে তিন পুলিশ সদস্য আহত হন।

 

অন্যদিকে রিয়াজের বড় বোন শারমিন বলেন, রিয়াজকে আটকের কারণ জানতে থানায় গেলে পুলিশ কোনো কথা না শুনে তাদের ওপর লাঠিচার্জ করে। এতে তার চাচা কাঞ্চন ফকির গুরুতর আহত হয়ে জ্ঞান হারান।

 

রিয়াজের বাবা সিদ্দিক ফকির দাবি করেন, মোবাইল ফোন মেরামতের জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর পুলিশ মাদক থাকার অভিযোগে তাকে আটক করে। থানায় গিয়ে তিনি ছেলের সঙ্গে কথা বললেও পরে তাকে চলে যেতে বলা হয়। তার অভিযোগ, রাতভর রিয়াজকে মারধর ও বৈদ্যুতিক শক দেওয়া হয়।

 

তিনি আরও বলেন, রাত আড়াইটার দিকে পুলিশ জানায়, গারদের শিকের সঙ্গে মাথা ঠুকে রিয়াজ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। সকালে হাসপাতালে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাওয়া যায়। তার দুই পায়ে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি এবং ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত ও দায়ীদের শাস্তি দাবি করেন।

 

তবে পুলিশের দাবি ভিন্ন। পুলিশ পরিদর্শক সুশংকর মল্লিক বলেন, রিয়াজ ফকিরের বিরুদ্ধে দুটি মাদক মামলা রয়েছে এবং তিনি জামিনে ছিলেন। স্বর্ণ চুরির একটি মামলায় সন্দেহভাজন হিসেবে বুধবার রাত পৌনে ৮টার দিকে তাকে ফুল্লশ্রী এলাকা থেকে আটক করা হয়। থানায় আনার পর তিনি নিজেই গারদের শিকের সঙ্গে মাথা আঘাত করে অজ্ঞান হয়ে পড়েন। তাকে কোনো ধরনের নির্যাতন করা হয়নি।

 

তিনি জানান, প্রথমে রিয়াজকে আগৈলঝাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাকে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

বাংলাদেশ সময়: ২০:০৩:১২ ● ২০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ