জেলেদের বুকফাটা আর্তনাদ ‘অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করুন, নয়তো বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন’

হোম » জেলে-মৎস্য » জেলেদের বুকফাটা আর্তনাদ ‘অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করুন, নয়তো বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন’
রবিবার ● ৫ জুলাই ২০২৬


 

জেলেদের বুকফাটা আর্তনাদ ‘অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করুন, নয়তো বিষ খাইয়ে মেরে ফেলুন’

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)

 

বঙ্গোপসাগরে অবৈধ ট্রলিং বোট, বটম ট্রলিং ও নিষিদ্ধ বেহুন্দি জালের মাধ্যমে নির্বিচারে মৎস্যসম্পদ ধ্বংসের প্রতিবাদে কুয়াকাটা-মহিপুরের জেলেরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করে অবিলম্বে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। দাবি আদায় না হলে উপকূলের হাজার হাজার জেলেকে ‘বিষ খাইয়ে মেরে ফেলার’ মতো হতাশাজনক অবস্থার কথাও তুলে ধরেছেন তারা।

 

রোববার (৫ জুলাই) সকাল ১১টায় মহিপুর প্রেসক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কলাপাড়া ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী জেলে সমিতির সভাপতি রফিকুল ইসলাম মৃধা এবং জেলে কামাল মাঝি সাধারণ জেলেদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন।

 

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, কুয়াকাটা, মহিপুর, আলিপুর ও আশাখালী উপকূলসংলগ্ন অগভীর বঙ্গোপসাগরে আধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন অবৈধ ট্রলিং বোটের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। এসব বোটে ফিশ ফাইন্ডার, জিপিএস, রাডার, ইকো সাউন্ডার ও উইঞ্চ মেশিন ব্যবহার করে নিষিদ্ধ বটম ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের তলদেশ চষে মাছের পোনা, ডিমওয়ালা মা মাছ, চিংড়ির রেণু ও কাঁকড়ার বাচ্চা ধ্বংস করা হচ্ছে।

 

জেলেদের অভিযোগ, ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে সাধারণ কাঠের ট্রলারকে অবৈধ ট্রলিং বোটে রূপান্তর করে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট এই কার্যক্রম পরিচালনা করছে। ফলে সামুদ্রিক মাছের প্রজনন রক্ষায় সরকারের ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞার সুফলও নষ্ট হচ্ছে।

 

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, বছরের পর বছর মানববন্ধন, স্মারকলিপি ও প্রশাসনের আশ্বাস মিললেও বাস্তবে অবৈধ ট্রলিং বন্ধে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। জেলেদের ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চোখের সামনেই এসব কর্মকাণ্ড চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।

 

জেলে কামাল মাঝি বলেন, ‘আমরা লাখ লাখ টাকা খরচ করে সাগরে যাই, কিন্তু মাছ পাই না। প্রশাসন চাইলে একদিনেই অবৈধ ট্রলিং বন্ধ করতে পারে। ছোট মাছ বড় হওয়ার আগেই শেষ হয়ে যাচ্ছে।’

 

সংবাদ সম্মেলনে উপকূলীয় জেলেদের দুর্দশার চিত্রও তুলে ধরা হয়। জেলেরা জানান, মাছের সংকটের কারণে অনেকেই এনজিও এবং মহাজনের ঋণ নিয়ে সংসার চালাচ্ছেন। কিস্তি পরিশোধ করতে না পেরে কেউ কেউ পেশা পরিবর্তন করে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় চলে যাচ্ছেন। খাদ্য, চিকিৎসা ও সন্তানদের শিক্ষার ব্যয় মেটানোও অনেক পরিবারের জন্য কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

জেলেরা বলেন, দেশের প্রাণিজ আমিষের বড় অংশ সামুদ্রিক মাছ থেকে আসে। অবৈধ শিকার বন্ধ না হলে শুধু জেলেদের জীবিকাই নয়, দেশের নীল অর্থনীতিও হুমকির মুখে পড়বে।

 

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হলো- অবৈধ ট্রলিং বোট জব্দ ও ধ্বংস, অগভীর সমুদ্রে বটম ট্রলিং কার্যকরভাবে নিষিদ্ধ করা, বেহুন্দিসহ নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান, ট্রলিং সিন্ডিকেটের অর্থদাতা ও প্রভাবশালীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং সাধারণ জেলেদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন মাছ ধরার পরিবেশ নিশ্চিত করা।

 

সংবাদ সম্মেলনে ট্রলার মালিক ও জেলে প্রতিনিধি হারুন খান, আল-আমিন কাডারু, নুরুল ইসলাম, সিদ্দিক ফকির, রুবেল বয়াতি, কামাল কাডারু, সেলিম আকনসহ অর্ধশতাধিক জেলে ও ট্রলার মালিক উপস্থিত ছিলেন।

 

এ বিষয়ে কলাপাড়া উপজেলা উপসহকারী মৎস্য কর্মকর্তা মো. মহসিন সাগরকন্যাকে বলেন, বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে চিঠি দেওয়া হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন, নৌ-পুলিশ ও কোস্ট গার্ডের সমন্বয়ে জরুরি সভা করে অবৈধ ট্রলিংয়ের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১৮:৪৭:০৮ ● ১১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ