
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাবুগঞ্জ (বরিশাল)
বরিশালের বাবুগঞ্জে কুকুরের আক্রমণে আহত একটি বিপন্ন প্রজাতির গন্ধগোকুল (সিভেট) উদ্ধার করে বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। শনিবার বিকেলে উপজেলার রহমতপুর ইউনিয়নের রাজগুরু এলাকার কিরআতুল কুরআন কওমী মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে প্রাণীটি উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বিকেলে মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে একটি গন্ধগোকুল কুকুরের আক্রমণের শিকার হয়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ দ্রুত সেখানে যান। পরে তিনি প্রাণীটিকে গন্ধগোকুল হিসেবে শনাক্ত করে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতায় কুকুরের কবল থেকে উদ্ধার করেন। এরপর প্রাণীটিকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়।
কুকুরের কামড়ে প্রাণীটির লেজে আঘাত ও ক্ষতের চিহ্ন দেখা গেছে বলে জানা গেছে। উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে বিরল এই বন্যপ্রাণীটিকে দেখতে স্থানীয়দের ভিড় জমে।
খবর পেয়ে বাবুগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে গন্ধগোকুলটিকে নিজেদের হেফাজতে নেন।
উদ্ধারকারী হাফেজ মুহাম্মদ আব্দুল্লাহ বলেন, ‘কুকুরের আক্রমণে প্রাণীটি আহত হয়েছিল। আমি ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা মিলে সেটিকে উদ্ধার করি। পরে চিকিৎসার জন্য বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, যাতে সুস্থ হয়ে আবার প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরে যেতে পারে।’
এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘আমরা দেখি একটি কুকুর প্রাণীটিকে আক্রমণ করছে। স্যারের নির্দেশে সবাই মিলে কুকুরটিকে তাড়িয়ে গন্ধগোকুলটিকে উদ্ধার করি। পরে নিরাপদে রেখে বন বিভাগে খবর দেওয়া হয়।’
বাবুগঞ্জ উপজেলা বন বিভাগের কর্মকর্তা মাসুম মোস্তফা কাওসার বলেন, ‘উদ্ধার হওয়া গন্ধগোকুলটিকে বরিশাল বন বিভাগের রেঞ্জ কার্যালয়ে নিয়ে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ সুস্থ হলে প্রাণীটিকে তার প্রাকৃতিক আবাসস্থলে অবমুক্ত করা হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘কোনো বন্যপ্রাণী আহত বা বিপদে পড়লে সেটিকে নিজের কাছে আটকে না রেখে বন বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো উচিত। এতে প্রাণীটির জীবন রক্ষা করা সম্ভব হয়।’
বন বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গন্ধগোকুল বাংলাদেশের একটি প্রায় বিপন্ন নিশাচর বন্যপ্রাণী। এটি ফল, পোকামাকড়, ছোট সরীসৃপ ও অন্যান্য ক্ষুদ্র প্রাণী খেয়ে বেঁচে থাকে। বনজ পরিবেশের জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ, বীজ বিস্তার এবং খাদ্যশৃঙ্খলের ভারসাম্য রক্ষায় প্রাণীটির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। তাই এ ধরনের বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা ও দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম জরুরি বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করেন।