
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বাগেরহাট
বাগেরহাট সদর উপজেলার বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর তিনটি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন বিএনপি ও এর সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। এ সময় হত্যাকাণ্ডের জন্য স্থানীয় জামায়াত নেতাদের দায়ী করে বক্তব্য দেন বক্তারা। পরে জামায়াতের তিনটি কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়।
এদিকে বিকেলে আড়পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বাদল মোড়লের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। জানাজায় বাগেরহাট জেলা পরিষদের প্রশাসক ব্যারিস্টার শেখ মোহাম্মদ জাকির হোসেন, জেলা বিএনপির সদস্যসচিব মোজাফফর রহমান আলম, বিএনপি নেতা খান মনিরুল ইসলাম, জেলা কৃষক দলের সভাপতি আসাফুদৌলা জুয়েলসহ কয়েক হাজার নেতাকর্মী অংশ নেন।
প্রতিবাদ সমাবেশে জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক কামরুল ইসলাম গোরা বলেন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা বিএনপি নেতা বাদল মোড়লকে হত্যা করেছে। হত্যাকারীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।
অভিযোগ রয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পর বুধবার দুপুরে বারুইপাড়া বাজারে ২ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয় ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের ইউনিয়ন কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। একই দিন ভোরে পার্শ্ববর্তী আড়পাড়া গ্রামে ১ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের কার্যালয়েও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।
বারুইপাড়া ইউনিয়ন জামায়াতের আমির শেখ মো. মহিউদ্দিন বলেন, বাদল ভাই হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে আমরা কিছুই জানি না। আমরা এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই। এরপরও একদল লোক আড়পাড়ার জামায়াত কার্যালয়ে ভাঙচুর চালিয়ে আগুন দেয়।
বাগেরহাট সদর উপজেলা বিএনপির সভাপতি সৈয়দ নাসির আহমেদ মালেক বলেন, বাদল মোড়লের মৃত্যুর পর কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছে। তবে কোথাও ভাঙচুর বা আইন নিজের হাতে তুলে না নিতে নেতাকর্মীদের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
ফকিরহাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শেখ সাইফুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। তবে হত্যাকারীদের শনাক্তে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে।
প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে বারুইপাড়া এলাকা থেকে ফকিরহাটের উদ্দেশ্যে রওনা হন বাদল মোড়ল ও আব্দুল্লাহ মোড়ল। পথে নিয়তির মাঠ এলাকায় পৌঁছালে তিনটি মোটরসাইকেলে থাকা হেলমেটধারী দুর্বৃত্তরা তাদের ওপর হামলা চালায়। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন বারুইপাড়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সভাপতি বাদল মোড়ল।
এ সময় বারুইপাড়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আব্দুল্লাহ মোড়ল আহত হন। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।