
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার সুতোবাড়িয়া গ্রামের সন্তান আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান খান ছিলেন বিএনপির দীর্ঘদিনের সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য ও সমাজসেবক। ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে এসে তিনি গলাচিপা-দশমিনা অঞ্চলে সাংগঠনিক নেতৃত্ব, উন্নয়ন উদ্যোগ এবং মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য পরিচিতি পান। ২০২২ সালের রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে তিনি মৃত্যুবরণ করেন।
পটুয়াখালীর উপকূলীয় জনপদ গলাচিপা উপজেলার চিকনিকান্দি ইউনিয়নের সুতোবাড়িয়া গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন আলহাজ্ব মোঃ শাহজাহান খান। শৈশব থেকেই তিনি ছিলেন মেধাবী, সাহসী ও মানবিক গুণে সমৃদ্ধ। গ্রামের সাধারণ মানুষের জীবনসংগ্রাম খুব কাছ থেকে দেখে তিনি মানুষের কল্যাণে কাজ করার প্রেরণা পান।
যৌবনে তিনি ব্যবসায় যুক্ত হয়ে পটুয়াখালী শহরে সফলতা অর্জন করেন। তবে ব্যক্তিগত সাফল্যের বাইরে গিয়ে তিনি সমাজসেবা ও রাজনীতিকে জীবনের লক্ষ্য হিসেবে গ্রহণ করেন। মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে তিনি ধীরে ধীরে রাজনীতিতে সক্রিয় হন।
১৯৮৮ সাল থেকে তিনি গলাচিপা ও দশমিনা উপজেলায় বিএনপির সংগঠক হিসেবে কাজ শুরু করেন। পরবর্তীতে গলাচিপা উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করে সংগঠনকে তৃণমূল পর্যায়ে শক্তিশালী করেন। পরে পটুয়াখালী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সহ-সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন।
১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। সংসদ সদস্য হিসেবে তিনি শিক্ষা, যোগাযোগ ও স্থানীয় উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্যোগ নেন এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রাখেন।
রাজনীতির পাশাপাশি তিনি রেড ক্রিসেন্টসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনে যুক্ত ছিলেন। দুর্যোগপ্রবণ উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের পাশে তিনি ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসের সময় সর্বদা এগিয়ে যেতেন।
পারিবারিক জীবনে তিনি ছিলেন দায়িত্বশীল ও স্নেহশীল ব্যক্তি। সন্তানদের তিনি সততা ও মানবসেবার শিক্ষা দিয়ে গেছেন। তিনি বলতেন, ‘মানুষের জন্য কাজ করতে হলে আগে পরিবারকে আদর্শভাবে গড়ে তুলতে হয়।’
২০২২ সালের ৪ নভেম্বর বরিশালে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশে যাওয়ার পথে পটুয়াখালী-বরিশাল মহাসড়কের গাবুয়া এলাকায় হামলায় তিনি গুরুতর আহত হন এবং পরবর্তীতে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় ২৮ নভেম্বর মৃত্যুবরণ করেন।
তার মৃত্যুর পর গলাচিপা, দশমিনা ও পুরো পটুয়াখালীতে শোকের ছায়া নেমে আসে। রাজনৈতিক মতভেদের ঊর্ধ্বে উঠে বহু মানুষ তার মানবিকতা, নেতৃত্ব ও ত্যাগকে স্মরণ করেন।
আজ তিনি না থাকলেও তার রাজনৈতিক জীবন, আদর্শ ও সমাজসেবামূলক কর্মকাণ্ড গলাচিপা-দশমিনার মানুষের স্মৃতিতে অমলিন হয়ে আছে।