
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বেনাপোল (যশোর)
কোরবানির ঈদ আর মাত্র চার দিন বাকি। দেশের বিভিন্ন পশুর হাটে এখন ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ বাড়লেও যশোরের শার্শা উপজেলা-এর সাতমাইল পশুর হাটে দেখা গেছে ভিন্ন চিত্র। হাটজুড়ে হাজার হাজার গরু থাকলেও প্রত্যাশিত সংখ্যক পাইকার ও ক্রেতার উপস্থিতি না থাকায় দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারি ও ব্যবসায়ীরা।
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের অন্যতম বৃহৎ এই হাটে বিভিন্ন উপজেলা থেকে দেশি ও উন্নত জাতের গরু আনা হয়েছে। প্রতিবছর এই হাট থেকে বিপুলসংখ্যক কোরবানির পশু যায় ঢাকা, খুলনা, ফরিদপুর, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লাসহ দেশের বিভিন্ন জেলায়। তবে এবার হাটে পশুর সরবরাহ থাকলেও ক্রেতার আগ্রহ তুলনামূলকভাবে কম।
হাটের বিভিন্ন অংশে সারিবদ্ধভাবে বাঁধা রয়েছে ছোট-বড় গরু। আকার ও জাতভেদে কোরবানির গরু বিক্রি হচ্ছে প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৩ লাখ টাকা পর্যন্ত। ছোট ও মাঝারি গরুর প্রতি কিছুটা আগ্রহ থাকলেও বড় গরুর ক্রেতা খুবই কম। অনেক খামারি সকাল থেকে গরু নিয়ে বসে থাকলেও কাঙ্ক্ষিত বিক্রি পাচ্ছেন না বলে জানান ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, হাটে অতিরিক্ত খরচ এবং পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় অনেক পাইকার আগ্রহ হারাচ্ছেন। অন্যদিকে খামারিরা বলছেন, খাদ্য, ওষুধ ও পরিচর্যার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় গরু উৎপাদন খরচও বেড়েছে, কিন্তু বাজারে দাম মিলছে না; ফলে লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
এদিকে যশোর জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর জানায়, শার্শা উপজেলায় কোরবানির জন্য প্রায় ১৬ হাজার গবাদিপশু প্রস্তুত রয়েছে। এর মধ্যে গরুর সংখ্যা প্রায় ১৩ হাজার ১০০টি। আর স্থানীয় চাহিদা প্রায় ১২ হাজার ৭২৬টি পশু। ফলে জেলায় কোরবানির পশুর কোনো সংকট হওয়ার আশঙ্কা নেই।
শার্শা উপজেলা প্রাণিসম্পদ অফিস জানায়, হাটে বিক্রিত পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা, গর্ভ পরীক্ষা এবং অসুস্থ পশুর চিকিৎসাসহ নিয়মিত মনিটরিং চলছে। পাশাপাশি নিষিদ্ধ পদ্ধতিতে মোটাতাজাকরণ করা পশু বাজারজাত না হয়-সেদিকেও নজর রাখা হচ্ছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আশা করছেন, ঈদ ঘনিয়ে এলে পশু কেনাবেচা আরও বাড়বে এবং বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে উঠবে।
ডিকে/এমআর