
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গলাচিপা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার চরকাজল ইউনিয়নে জেলে চাল বিতরণে অনিয়ম ও অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। ইউপি সদস্যদের মাসিক সম্মানি ভাতা এবং জেলেদের কাছ থেকে সংগৃহীত টাকায় চালের পরিবহন খরচ মেটানো হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২২ মে) দুপুরে চরকাজলের ১ হাজার ৩৬০ জন জেলের জন্য বরাদ্দকৃত ৮০ কেজি করে চাল পরবর্তীতে ২ হাজার ৭২০ জন জেলের মাঝে ৪০ কেজি করে বিতরণ করা হয়। পাশাপাশি চেয়ারম্যানের নির্দেশে ইউপি সদস্যদের মাধ্যমে প্রত্যেক জেলের কাছ থেকে ১৫০ টাকা করে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
এ বিষয়ে শুক্রবার চরকাজল ইউপি সাবেক চেয়ারম্যান আলী আহম্মেদ আকন স্বাক্ষরিত একটি লিখিত অভিযোগ গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হকের বরাবর দাখিল করা হয়। অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লার নির্দেশে জেলেদের কাছ থেকে পরিবহন খরচ বাবদ টাকা আদায়ের কথা উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের পর বিষয়টি জানাজানি হলে ইউপি সদস্যরা জেলেদের কাছ থেকে টাকা আদায়ে অনীহা প্রকাশ করেন এবং এক পর্যায়ে তারা চাল বিতরণ কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেন। পরবর্তীতে ইউপি চেয়ারম্যান একাই ইউপি সদস্যদের অনুপস্থিতিতে চাল বিতরণ করেন।
চাল নিতে আসা জেলে লাল মিয়া, মাহাবুব, মোহাম্মদ গাজী, লাল মিয়া মৃধা, রিয়াজ হাওলাদার ও কালাম হাওলাদার সাগরকন্যাকে জানান, তারা ৪০ কেজি করে চাল পেয়েছেন এবং ১৫০ টাকা করে দিয়েছেন বলে দাবি করেন।
অন্যদিকে ২ নম্বর ওয়ার্ড ইউপি সদস্য ও ১ নম্বর প্যানেল চেয়ারম্যান রিকজ হাওলাদার এবং ৩ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মনিরুল ইসলাম অভিযোগ করেন, চেয়ারম্যানের নির্দেশে তাদের জেলেদের কাছ থেকে টাকা তুলতে বাধ্য করা হয়েছে। তারা জানান, পরিবহন খরচের ঘাটতি পূরণ না হলে তাদের সম্মানি ভাতা থেকে রেজুলেশন করে টাকা কেটে নেওয়া হয়। গত মার্চ মাসে ১০ জন ইউপি সদস্যের কাছ থেকে অগ্রিম স্বাক্ষর নিয়ে ১ লাখ ৮ হাজার টাকা কর্তন করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।
এ বিষয়ে চরকাজল ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাবিবুর রহমান মোল্লা প্রথমে অভিযোগ অস্বীকার করেন। পরে তিনি জানান, উপকূলীয় চরাঞ্চলে পরিবহন খরচ বেশি হওয়ায় মিটিংয়ের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত নিয়ে ব্যয় সমন্বয় করা হয়েছে। তবে চাল আত্মসাতের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন। ইউপি সদস্যদের ভাতা থেকে পরিবহন খরচ কর্তনের বিষয়টি রেজুলেশনের মাধ্যমে করা হয়েছে বলে তিনি স্বীকার করেন।
গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক জানান, জেলে চাল বিতরণে উপকারভোগীদের কাছ থেকে পরিবহন খরচ নেওয়ার কোনো বিধান নেই। ইউপি সদস্যদের ভাতা থেকেও এ ধরনের খরচ সমন্বয়ের সুযোগ নেই। অভিযোগটি এখনো তিনি পাননি, তবে তদন্তসাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।