
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
নামের সঙ্গে জীবনের কোনো মিল নেই তার- শান্তি বেগম। শৈশবে মা-বাবা হারিয়ে অন্যের বাড়িতে আশ্রিত জীবন, ভিক্ষাবৃত্তি করে বড় হওয়া এবং পরবর্তীতে বিয়ের পরও ভাগ্যে জোটেনি শান্তি। বর্তমানে স্বামীর নির্যাতনে গুরুতর আহত হয়ে দুই ছোট সন্তানকে নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে আশ্রয় নিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জীবিকার তাগিদে দীর্ঘদিন ঢাকায় বিভিন্ন বাসায় গৃহকর্মীর কাজ করতেন শান্তি বেগম। সেখান থেকেই বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তাকে বরগুনায় নিয়ে আসেন তার স্বামী। তবে সংসার জীবনের শুরু থেকেই নেমে আসে নির্যাতন ও অমানবিক আচরণ। নেশাগ্রস্ত স্বামীর মারধর ও সহিংসতায় বারবার ভেঙে পড়লেও দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা ভেবে সংসার টিকিয়ে রাখার চেষ্টা করেন তিনি।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত নির্মম নির্যাতনের শিকার হয়ে গুরুতর আহত হন শান্তি বেগম। অভিযোগ রয়েছে, নির্যাতনের পর তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় ফেলে পালিয়ে যায় স্বামী। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
বর্তমানে তিনি তার দুই শিশু সন্তানকে নিয়ে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে আশ্রয় নিয়েছেন। হাসপাতালের বারান্দা ও ওয়ার্ডই এখন তাদের অস্থায়ী ঠিকানা। চিকিৎসার পাশাপাশি খাবার, শিশুদের দুধ, পোশাক ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের চরম সংকটে দিন কাটছে তাদের।
চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্টরা জানান, শারীরিকভাবে তিনি দুর্বল এবং দীর্ঘমেয়াদি যত্ন ও পুনর্বাসন প্রয়োজন। তবে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পাওয়ার পর তাদের থাকার কোনো স্থায়ী ব্যবস্থা নেই।
এদিকে স্থানীয় সচেতন মহল বলছে, শান্তি বেগমের মতো অসহায় নারীদের পাশে দাঁড়ানো সমাজের মানবিক দায়িত্ব। প্রশাসন, সমাজসেবী সংগঠন ও বিত্তবানরা এগিয়ে এলে তার জীবন ও সন্তানদের ভবিষ্যৎ রক্ষা করা সম্ভব।
তাদের মতে, মানবিক সহানুভূতি ও সহযোগিতাই হয়তো বদলে দিতে পারে এই অসহায় পরিবারের জীবন।