ইভিএম এ নাই কোন প্রচার-প্রচারণা ঘুষের আখড়ায় পরিনত হয়েছে গোপালগঞ্জ সদর নির্বাচন অফিস

প্রথম পাতা » সর্বশেষ » ইভিএম এ নাই কোন প্রচার-প্রচারণা ঘুষের আখড়ায় পরিনত হয়েছে গোপালগঞ্জ সদর নির্বাচন অফিস
মঙ্গলবার ● ১৯ মার্চ ২০১৯


---

গোপালগঞ্জ সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥
আগামী ২৪ মার্চ রবিবার গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন। এখানে এবারই প্রথম ইভিএম এ ভোট  গ্রহণ করা হবে। কিন্ত  সদর নির্বাচন অফিসের নাই কোন প্রচার-প্রচারণা ও মাইকিং।  জানা যায়, ইভিএম পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার লক্ষে প্রশিক্ষণ ও প্রচার-প্রচারণার কাজে সরকার থেকে প্রচুর অর্থ বরাদ্দ করেছেন। যেখানে থাকবে প্রশিক্ষণ, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংসহ বিভিন্ন কার্যক্রম। ফলে নির্বাচনের দিনে ভোটারের উপস্থিতি কম হবে বলে ধারনা করছেন সচেতন মহল।  কিন্তু কোন রকম দায়সারা ভাবে কাজ করছেন উপজেলা নির্বাচন অফিসার হারুন অর রশিদ । বিভিন্ন মহল থেকে সরকারের এই সকল বরাদ্ধ হরিলুট করে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।
গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাচন অফিসে এখন ঘুষ বাণিজ্য ‘ওপেন সিক্রেট’। বিনামূল্যের জাতীয় পরিচয়পত্র সংশোধনের সুযোগ নিতে এসে সময় ও অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি হয়রানির শিকার হচ্ছেন সাধারণ জনগন। ভূক্তভোগীরা বলেন, নির্বাচন কমিশনের অসতর্কতা, খামখেয়ালীপানা সহ তার দাপটে তাদের পকেটের টাকা গচ্ছা দিতে হচ্ছে।
উন্নতমানের জাতীয় পরিচয়পত্রে (স্মার্টকার্ড) বাবার নাম, জন্মতারিখ এবং ঠিকানা সংশোধন করতে গেলেই নির্বাচন কমিশনে নানা ধরনের হয়রানি ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে সাধারণ মানুষ।

অভিযোগ দিলে উল্টো অভিযোগকারীকে হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখান উপজেলা নির্বাচন অফিসার।
সূত্র জানায়, ভোটার তালিকায় নাম উঠানো, সংশোধন ও স্থান পরিবর্তনসহ নানা কাজে কৌশলে টাকা হাতিয়ে নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ কারীরা বলেন প্রথম ভোটার হতে গিয়ে এমন হয়রানি হতে হবে জানা ছিল না। টাকার বিনিময়ে ভোটার হতে হয়েছে। অনেকের অভিযোগ টাকা ছাড়া এখানে কাজ হয় না।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অভিযোগকারী জানায়, সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা হারুন অর রশিদ ও তার অফিস সহকারী সুরেশ চন্দ্র মজুমদারের যোগসাজশে এবং দালালের মাধ্যমে  ঘুষ নিচ্ছেন। অনেকের আবার  দুই বছরেও আই কার্ডের  ভুল সংশোধন করা সম্ভব হয়নি। এটা নাই ওটা নাই  করে সময় কাটাচ্ছেন ।
উপজেলা নির্বাচনে ইভিএম পদ্ধতিতে প্রশিক্ষনে পর্যাপ্ত প্রশিক্ষক দেওয়া হয় নাই । কোন কারনে প্রশিক্ষক  তার পরিবর্তে অন্য একজন প্রশিক্ষকে প্রশিক্ষন দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেও তার কাছে টাকা দাবী করে । অন্যথায় তাকে অফিস থেকে বের হয়ে যেতে বলেন নির্বাচন অফিসার হারুন অর রশিদ।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সদর উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের নির্বাচনে ডিউটির ইচ্ছা থাকলেও তালিকায় তাদের নাম দেওয়া হয় নাই বলে অভিযোগ করেন শিক্ষরা। ধন্যা দিয়েও ডিউটি পায় নাই অনেক শিক্ষক। উপজেলা নির্বাচনেও অফিসারের মনোপুত শিক্ষক ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের ব্যাক্তিদের দিয়ে ডিউটি করাচ্ছেন।  এর প্রতিবাদ করলে তাকে হয়রানি ও অপমান করেন ওই অফিসার। আবার পদবী, বেতন স্কেল বিবেচনা না করে প্রধান শিক্ষক, সহ-প্রধান শিক্ষকদের পোলিং এজেন্ট করে ওই শিক্ষকদের অপমান করেছেন ওই অফিসার। ভুক্তভোগীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

এসব অভিযোগ অস্বীকার করে সদর নির্বাচন অফিসার হারুন অর রশিদ  বলেন  এখানে কোনো অনিয়ম ও দুর্নীতি হচ্ছে না। বিধি অনুযায়ী কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫৪:৩৪ ● ৩১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ