শব্দদূষণের বিরুদ্ধে একযোগে মাঠে নামছে সরকারি একাধিক বিভাগ

প্রথম পাতা » বিশেষ প্রতিবেদন » শব্দদূষণের বিরুদ্ধে একযোগে মাঠে নামছে সরকারি একাধিক বিভাগ
সোমবার ● ১১ মার্চ ২০১৯


---

সাগরকন্যা এক্সক্লুসিভ রিপোর্ট॥
দেশে শব্দদূষণ ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। শব্দদূষণের কারণে দিন দিন বধিরের সংখ্যা বাড়ছে। বেড়েছে মানুষের হৃৎকম্প। তাছাড়া আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে উচ্চ রক্তচাপ, মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব হয়—এমন রোগীর সংখ্যাও। রাজধানী থেকে শুরু কওে এখন বিভাগ ছাড়িয়ে জেলা পর্যায়েও শব্দদূষণের মাত্রা সীমা ছাড়িয়েছে। এমন বাস্তবতায় সারা দেশে শব্দদূষণ প্রতিরোধে পরিবেশ অধিদপ্তর, পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ) ও স্থানীয় প্রশাসন একসঙ্গে মাঠে নামছে। অনেকেই শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ২০০৬ সালে জারি করা বিধিমালা সম্পর্কে জানে না। এমনকি উচ্চ শব্দ হলে কোথায় কোথায় অভিযোগ করতে হয় তাও সাধারণ মানুষ জানে না। ফলে সারা দেশে প্রতিনিয়তই অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটছে। এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষ যাতে বিদ্যমান বিধিমালা সম্পর্কে অবহিত হয় সেজন্য পরিবেশ অধিদপ্তর সারা দেশেই জনসচেতনতামূলক অনুষ্ঠানের আয়োজন করবে। সেখানে স্থানীয় প্রশাসনকেও সম্পৃক্ত করা হবে। পরিবেশ অধিদফতর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে. বিদ্যমান শব্দদূষণ বিধিমালায় নীরব এলাকায় দিনে সর্বোচ্চ ৫০ ডেসিবল, রাতে ৪০ ডেসিবল, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবল, রাতে ৪৫ ডেসিবল, বাণিজ্যিক এলাকায় দিনে ৭০ ডেসিবল, রাতে ৬০ ডেসিবল, শিল্প এলাকায় দিনে ৭৫ ডেসিবল, রাতে ৭০ ডেসিবল রাখার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী ওসব এলাকায় শব্দদূষণ বিদ্যমান মাত্রার চেয়েও দ্বিগুণ। ঢাকার পল্টন ও ফার্মগেটে সর্বোচ্চ ১৩২ ডেসিবল পর্যন্ত উঠছে। চট্টগ্রামে ১৩৩ ডেসিবল, খুলনায় সর্বোচ্চ ১৩২, বরিশালে ১৩১, রংপুরে ১৩০, রাজশাহীতে ১৩২ এবং ময়মনসিংহে ১৩০ ডেসিবল মাত্রা পাওয়া গেছে। এর আগে কখনো জেলাওয়ারি জরিপ করা হয়নি। ভারত, থাইল্যান্ড, চীনসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সার্বক্ষণিক শব্দমাত্রা মনিটরিং নেটওয়ার্ক সিস্টেম চালু রয়েছে। কিন্তু এদেশেও ওই নেটওয়ার্ক চালুর কোনো উদ্যোগ এখনো নেয়া হয়নি।
সূত্র জানায়, জাপানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই স্কুলের শিক্ষার্থীদের শব্দদূষণ এবং এর ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে শেখানো হয়। যাতে ছোট থেকেই তারা শব্দদূষণের ক্ষতির বিষয়ে জানতে পারে। বাংলাদেশেও ওই ধরনের উদ্যোগ নেয়া হবে। সারা দেশে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বাছাই করা এক লাখ শিক্ষার্থীকে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেবে পরিবেশ অধিদপ্তর। তাছাড়া দেশজুড়ে বাস, ট্রাক, পিকআপসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদেরও প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। শুধু তাই নয়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী, সুধীসমাজ, বেসরকারি সংস্থার (এনজিও) প্রতিনিধি, সাংবাদিক, ব্যবসায়ী, মসজিদের ইমামদেরও প্রশিক্ষণের আওতায় আনা হবে। একই সাথে সারা দেশে ১০ হাজার সরকারি কর্মকর্তাকেও শব্দ সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। বাদ যাবে না কারখানা ও নির্মাণ শ্রমিকরাও। নির্বাচিত ৫ হাজার কারখানা ও নির্মাণ শ্রমিককেও সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ দেয়া হবে। শব্দদূষণের কারণে স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে টেলিভিশন, রেডিও, পত্রিকায় প্রচার, ৮টি বিভাগীয় শহরে ডিসপ্লে এবং শব্দ সচেতনতা দিবস উদ্যাপনেরও সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। দেশজুড়ে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে ৩৫ কোটি টাকা ব্যয় ধরে একটি প্রকল্পটি প্রস্তাব করা হয়েছে। আর প্রকল্পটি অনুমোদন পাওয়া পর পরই কাজ শুরু করা হবে।
এদিকে এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের চেয়ারম্যান আবু নাসের খান জানান, দেশে প্রতিনিয়তই বাড়ছে যানবাহনের সংখ্যা। বাড়ছে মোটরসাইকেলের সংখ্যাও। একই সাথে দেশজুড়ে অবকাঠামো নির্মাণ চলছে। ওসব কারণে শব্দদূষণের মাত্রা বাড়ছে। শব্দদূষণের মাত্রা কমাতে বিদ্যমান আইনের কঠোর বাস্তবায়ন এবং গণপরিবহন ব্যবস্থা জোরদার করা জরুরি।
অন্যদিকে একই প্রসঙ্গে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক ফরিদ আহমেদ জানান, শব্দদূষণ নিয়ে এর আগে পরিবেশ অধিদপ্তর সীমিত পরিসরে কাজ করলেও এবারই প্রথম দেশজুড়ে করতে যাচ্ছে। তাছাড়া ৬৪ জেলায় শব্দের মাত্রা পরিমাপের জন্য একটি জরিপ পরিচালনা করা হবে।

বাংলাদেশ সময়: ৭:৪৮:১১ ● ৪৬৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ