উপজেলা চেয়ারম্যান পদেআমতলীতে মনোনয়ন চান ঢাবি‘র ছাত্রনেতা মিজান

প্রথম পাতা » বরগুনা » উপজেলা চেয়ারম্যান পদেআমতলীতে মনোনয়ন চান ঢাবি‘র ছাত্রনেতা মিজান
সোমবার ● ৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৩


আমতলীতে মনোনয়ন চান ঢাবি‘র ছাত্রনেতা মিজান

আমতলী (বরগুনা) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

১/১১’তে সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনের শিকার সাবেক ছাত্রলীগ নেতা মিজানুর রহমান মিজান। ১৫ বছরেও তিনি নির্যাতনে কথা ভুলতে পারেননি। নির্যাতনে কথা মনে পড়লে এখনো শিউরে উঠেন তিনি। কিন্তু রাজপথের ত্যাগী, লড়াকু সৈনিক ১৬ মাস কারাভোগকারী মিজান ১৫ বছরেও রাষ্টীয় ক্ষমতায় আসীন হননি। নিভৃতচারী এই সাবেক ছাত্রলীগ নেতা অবহেলায় রয়ে গেছেন। আমতলী উপজেলা পরিষদ পুনঃনির্বাচনে তাকে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবী প্রান্তিক জনগোষ্ঠি এবং ত্যাগী নেতাকর্মীদের।
জানাগেছে, আমতলী উপজেলার হলদিয়া গ্রামের মোঃ আজাহার উদ্দীন আহমেদ’র মেধাবী সন্তান মোঃ মিজানুর রহমান মিজান। ১৯৯৬ সালে আমতলী ডিগ্রী কলেজ থেকে সফলতার সাথে এইএসসি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ইতিহাস বিষয়ে ভর্তি হন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পরপরই তিনি জাতিরজনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া ছাত্রলীগের রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে খালেদা-নিজামী জোট সরকারের সকল আন্দোলন সংগ্রামে তিনি ছিলেন লড়াকু সৈনিক। ৯৮ সালে তিনি মহসিন হল শাখার ছাত্রলীগের সমাজসেবা বিষয়ক সম্পাদক হন। পরে বিশ^বিদ্যালয়ের নেতা হন। ২০০১ সালে আওয়ামীলীগ বিরোধী দলে থাকার সময় তার রাজপথের আন্দোলনের গতি আরো বেগবান হয়। তাকে দমাতে তৎকালিন খালেদা সরকার তার বিরুদ্ধে ৫৭ টি মামলা দায়ের করেন। এতো মামলার পরেও তাকে দমিয়ে রাখতে পারেনি খাদেলা নিজামী জোট সরকার। ২০০১ সালে খালেদা নিজামী জোট সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ে ক্যাম্পাসে ছাত্রলীগের ১১ জনের একটি মিছিল বের করে। ওই মিছিলের ১১ জনের মধ্যে মিজানুর রহমান মিজান অন্যতম। ২০০২ সালে কেন্দ্রিয় ছাত্রলীগের লিয়াকত বাবু কমিটির সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। ২০০৬ সালের ছাত্রলীগের জাতীয় সম্মেলনে কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি নির্বাচিত হন। ২০০৬ সালের ২৮ শে অক্টোবর পল্টন এবং বায়তুল মোকাররম এর সামনে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীদের সাথে জামায়াতে ইসলামীর কর্মীদের সাথে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে ছাত্রলীগের নেতৃত্ব দেন তিনি। ১/১১’র জরুরী অবস্থা জারির সময়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সেনাবাহিনীর হাতে  গ্রেপ্তার হন মিজান । সেনাবাহিনী তাকে  গ্রেপ্তার করে চোখ বেঁধে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জিমনেসিয়াম নিয়ে যান। ওইখানে নিয়ে তাকে অমানষিক নির্যাতন করেন। প্রচন্ড শীতের মধ্যে পানিতে ভিজিয়ে টর্চার  করা হয় এবং নির্যাতনের  সময়ে বারবার  জানতে চান, শেখ হাসিনার কর্মসূচী কি? ছাত্রলীগের কর্মসুচি কি? কিন্তু সেনাবাহিনীর শত নির্যাতন সত্ত্বেও তিনি ছাত্রলীগের কর্মসুচী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে তথ্য দেয়নি। তিন দিন আটকে রেখে একের পর পর নির্যাতন চালায় তারা। সেনাবাহিনীর নির্যাতনে মাথাসহ তার শরীরে বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম। পরে বিশেষ আইনে তাকে ডিটেনশন দিয়ে কারাগারে পাঠান। দীর্ঘ ১৬ মাস কারাভোগ শেষে ২০০৮ সালে তিনি জামিনে মুক্তি পান। সেনাবাহিনীর অমানষিক নির্যাতন ও কারাভোগের চিত্র মনে করে এখনো গুমরে  কাঁদেন রাজপথের এই ত্যাগী  লড়াকু সৈনিক। সেনাবাহিনীর নির্মম নির্যাতনে এখনো মাঝে মাঝে মাথার প্রচন্ড ব্যাথায় কাতরান তিনি। কিন্তু অর্থাভাবে উন্নত চিকিৎসা করাতে পারেননি বলে দাবী করেন মিজান। এতো আন্দোলন সংগ্রাম ও ত্যাগের পরেও তিনি অবহেলায় রয়ে গেছেন। তার কাজের স্বীকৃতি স্বরুপ ২০১৩ সালে ১৯ তম জাতীয়  সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাকে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় উপ-কমিটির সহ-সম্পাদক মনোনীত করেন। ২০ তম জাতীয় সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী তাকে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য মনোনীত করেন। ২১ তম জাতীয় সম্মেলনে পুনরায় তাকে আওয়ামী লীগের শিল্প ও বানিজ্য বিষয়ক উপ-কমিটির সদস্য নির্বাচিত করেন। এ লড়াকু সৈনিক দল ক্ষমতার আসার ১৫ বছরে দলীয় পদ-পদবী ছাড়া আর কিছুই পায়নি। নিবৃতচারী এ রাজপথের সৈনিক অবহেলায়ই রয়ে গেছেন। আগামী ১৬ মার্চ আমতলী উপজেলা পরিষদ পুনঃনির্বাচন। ওই নির্বাচনে তাকে আওয়ামীলীগ দলীয় মনোনয়ন দেয়ার দাবী জানান প্রান্তিক জনগোষ্ঠি এবং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
সাবেক ছাত্রলীগ নেতা  মোঃ মিজানুর রহমান মিজান বলেন, ঢাকা  বিশব্বিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার পর আমার বাবার স্বপ্ন ছিল আমি বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হবো অথবা বিসিএস ক্যাডার হবো কিন্তু আমি সেখান থেকে সরে গিয়ে মানুষের সেবা নিজেকে নিয়োজিত করেছি। জীবনের অর্ধেক সময় কাটিয়ে দিয়েছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শে গড়া সংগঠন আওয়ামীলীগের রাজনীতি করে। খালেদা নিজামী জোট সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগ্রাম করতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার এবং ৫৭ টি মামলার আসামী হয়েছি। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদল কর্তৃক নির্যাতনের শিকার হয়েছি। তিনি আরো বলেন, মুহসিন হলে আমার ৩০৪ নম্বর কক্ষ ছাত্রদল ভাংচুর করে। আমার বই পত্র নিয়ে যায়। পরে পরীক্ষায় বসতে পারিনি।  ১/১১’র সময় সেনাবাহিনী আমাকে গ্রেপ্তার করে চোখ বেঁধে ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের জিমনেসিয়ামে নিয়ে যান। ওইখানে তিন দিন আটকে রেখে অমানষিক নির্যাতন করেছে। সেনাবাহিনীর নির্যাতনের কথা আজও ভুলতে পারিনি। এখনো নির্যাতনের কথা মনে পড়লে শিউরে উঠি। সেনাবাহিনীর নির্যাতন ও ১৬ মাসের কারাভোগের কষ্ট এখনো বয়ে বেড়াচ্ছি। শরীরের বিভিন্ন স্থানে এখনো প্রচন্ড ব্যাথা হয়। ঘুমাতে কষ্ট হয়। কিন্তু এতে আন্দোলন সংগ্রাম ও খালেদা সরকারের নির্যাতনের পরেও দলীয় পদ-পদবী ছাড়াই রাষ্টীয় ক্ষমতার কিছুই পাইনি। প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমতলী উপজেলা পরিষদ পুনঃনির্বাচনের দলীয় মনোনয়নের দাবী জানাই। দল মনোনয়ন দিলে আমি বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রীর স্বপ্ন বাস্তবায়নে অগ্রনী ভুমিকা পালন করবো।

এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৯:৩৮:০২ ● ৪৪৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ