আমতলীতে পরকিয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন!

প্রথম পাতা » বরগুনা » আমতলীতে পরকিয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন!
মঙ্গলবার ● ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২২


আমতলীতে পরকিয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্ত্রীকে নির্যাতন!

আমতলী (বরগুনা) সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

পরকিয়ায় বাঁধা দেয়ায় স্বামী খোকন খাঁন স্ত্রী এলেনুর বেগমকে (৪৫) মারধর করেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।  আহত এলেনুর বেগম এমন অভিযোগ করেন। মঙ্গলবার সকালে তাকে স্বজনরা উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে। এ ঘটনায় এলেনুর বেগম স্বামী খোকন খাঁনের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছেন। ঘটনা ঘটেছে সোমবার দিবাগত গভীর রাতে।
জানাগেছে,  উপজেলার আজিমপুর গ্রামের কাঠ মিস্ত্রি খোকন খাঁন ২৫ বছর পুর্বে চাঁদপুর জেলার রাহিমা বেগম এক নারীকে বিয়ে করেন। প্রথম স্ত্রীর ঘরে দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। গত ১৫ বছর পুর্বে ú্রথম স্ত্রী-সন্তান রেখে খোকন বাড়ীতে পালিয়ে আসেন। বাড়ীতে এসে কালিপুরা গ্রামের এলেনুরকে দ্বিতীয় বিয়ে করেন। ওই ঘরে তার দুইটি মেয়ে সন্ত্রান রয়েছে। গত চার মাস পুর্বে খোকন একই গ্রামের চার সন্তানের জননী এক নারীর সাথে পরকিয়ার জড়িয়ে পরেন। গত মে মাসে ওই নারীকে নিয়ে তিনি চট্রগ্রাম পালিয়ে যান। তিন মাস বিবাহ বহির্ভুতভাবে চট্টগ্রাম অবস্থান করেন। গত ২০ আগষ্ট দ্বিতীয় স্ত্রী এলেনুর বেগম তাদের চট্টগ্রাম থেকে ফিরিয়ে আনেন। এ ঘটনার জের ধরে স্ত্রী এলেনুর বেগমকে স্বামী খোকন খাঁন গত ছয় মাস ধরে অমানষিক নির্যাতন করে আসছে। নির্যাতন সইতে না পেরে সোমবার রাতে স্ত্রী এলেনুর বেগম স্বামী খোকনের বিরুদ্ধে আমতলী থানায় লিখিত অভিযোগ দেয়। পুলিশ তাকে থানায় ডেকে আনেন। ওই রাতেই স্ত্রীকে নির্যাতন করবে না মর্মে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে চলে যান। ওইদিন রাত তিনটার দিকে পরকিয়া নারীকে তিনি তৃতীয় বিয়ে করবেন বলে  স্ত্রীর কাছে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর চান। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে বেধরক মারধর করে। মঙ্গলবার সকালে স্বজনরা তাকে উদ্ধার করে আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেছে।
আহত দ্বিতীয় স্ত্রী এলেনুর বেগম বলেন, স্বামী খোকন খাঁন চাঁর সন্তানের জননী বিউটি বেগম নামের এক নারীর সাথে পরকিয়া করছেন।  ওই নারীর স্বামী রয়েছে। তাকে এখন বিয়ে করবে বলে আমার কাছে লিখিত কাগজে স্বাক্ষর চায়। আমি এতে রাজি না হওয়ায় আমাকে বেধরক মারধর করেছে। তিনি আরো বলেন, এ বিষয়ে গতকাল রাতে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। পুলিশ গিয়ে আমার স্বামীকে ধরে এনেছে। পরে আমাকে নির্যাতন করবে না বলে পুলিশের কাছে মুচলেকা দিয়ে ছাড়া পায়। কিন্তু ওই রাতেই আমাকে পুনরায় বেধরক মারধর করেছে। আমি এ ঘটনার বিচার চাই।
আমতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডাঃ লুনা বিনতে হক বলেন, এলেনুরের শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমের চিহৃ রয়েছে। তাকে হাসপাতালে ভর্তি করে যথাযথ চিকিৎসা দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার এএসআই বিশ্বজিৎ মজুমদার বলেন, পারিবারিক বিষয় তাই আদালতে মামলা করতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
আমতলী থানার ওসি একেএম মিজানুর রহমান বলেন, অভিযোগ আমার পর্যন্ত আসেনি। অভিযোগের মর্মানুসারে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এমএইচকে/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ২২:০৮:৪৪ ● ২৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ