বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে যানচলাচল শুরু

প্রথম পাতা » পিরোজপুর » বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে যানচলাচল শুরু
সোমবার ● ৫ সেপ্টেম্বর ২০২২


বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুতে যানচলাচল শুরু

পিরোজপুর সাগরকন্যা প্রতিনিধি॥

মধ্যরাতে যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হলো বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি। পিরোজপুর-১ আসনের এমপি মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী  শ.ম রেজাউল করিম ওই সেতুর প্রথম টোল প্রদানকারী হিসাবে টোল প্রদান করে পিরোজপুরের কুমরিমারা প্রান্তর থেকে কাউখালীর  বেকুটিয়া প্রান্তরে যান।
রবিবার (৪ আগস্ট) রাত ১২টা এক মিনিটের সময় তিনি নিজেকে বহন করা গাড়িটি সহ  প্রতিটি গাড়ির টোল হিসাবে  ৩ শত  ৩০ টাকা   টোল প্রদান করে সেতুটি পার হয়ে আনুষ্ঠানিক ভাবে  তা  যান চলাচলের জন্য খুলে দেয়া হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন পিরোজপুরের জেলা প্রশাসক মো. জাহেদুর রহমান, পুলিশ সুপার মো. সাঈদুর রহমান,বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সংসদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইসহাক আলী খান পান্না সহ স্হানীয় বিভিন্ন রাজনৈতিক ও সামাজিক সংগঠনের ব্যাক্তিগন। আর ওই একই সময় কাউখালীর বেকুটিয়া প্রান্তর থেকে সেতুটি পাড় হন পিরোজপুর-২ আসনের এমপি জাতীয় পার্টি (জেপি) চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু। পরে তিনি পিরোজপুরের কুমিরমারা প্রান্তরে টোল প্রদান করেন।
পরে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী সাংবাদিকদের সাথে এক ব্রিফিং-এ বলেন, অবহেলিত দক্ষিনের এ জনপদের মানুষের ভাগ্যের  উন্নয়নে এ সেতুটি  একটি মাইল ফলক। আর  এ মাইল ফলকের একমাত্র  নির্মাতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। কেননা, শেখ হাসিনার উদ্যোগেই এ আজ এ সেতুটি নির্মান করা হয়েছে। আর তিনি যখনই ক্ষমতায় আসেন তখনই  দক্ষিনা লের যোগাযোগ ব্যবস্হার উন্নয়ন সহ এখানের মানুষের সার্বিক কল্যানের চেষ্টা করেন। তাই  দক্ষিনাঞ্চল সহ দেশের উন্নয়নে আবারও আ’লীগের ক্ষমতায় আসা প্রয়োজন বলে দাবী করেন তিনি।
এর আগে ওই একই দিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রধান অতিথি হিসাবে বঙ্গবভন থেকে ভার্চুয়ালী সেতুটির উদ্বোধন করেন।
জানা গেছে, গত ২০০০ সালে পিরোজপুর সরকারি বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে  তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কচা নদীর বেকুটিয়া  অংশে অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি স্হাপনের ঘোষনা দিয়েছিলেন। পরে ২০১৮ সালের ২০ অক্টোবর  তিনি  বেকুটিয়া পয়েন্টে এ সেতুর ভিত্তি প্রস্তর স্হাপন করেন। ওই বছর ‘চায়না রেলওয় ১৭তম ব্যুরো গ্রুপ কোম্পানী লিমিটেড’ নামে একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের আওতায়  ‘চায়না রেলওয়ে মেজর ব্রীজ রিকোনিসেন্স ডিজাউন ইনস্টিটিউট’ ওই সেতুটি নির্মান করেন। গত ৭ আগস্ট চীনা পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর উপস্থিতিতে ঢাকায় চীনা  দূতাবাসের ইকনোমি মিনিস্টার বাংলাদেশের সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রনালয়ের সচিবের    কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে সেতুটি হস্হান্তরের দলিল স্বাক্ষর করেন।  ৯টি স্প্যান ও ১০টি পিলার বিশিষ্ট এবং  ৯৯৮ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১৩ দশমিক ৪০মিটার প্রস্তের ওই সেতুটির নির্মান ব্যায় ধরা হয়েছে প্রায় ৮৮৯ কোটি টাকা এর মধ্যে ৬৫৪ কোটি চীন এবং ২৪৪ কোটি টাকা  বাংলাদেশ সরকার যোগান দিয়েছেন। ৪২৯ মিটার ভায়াডাক্ট সহ ডাবল লেনের সৈতুটির দৈর্ঘ্য ১৪২৭ মিটার এবং প্রস্ত ১০ দশমিক ২৫ মিটার। সেতুটি জেলার কাউখালী উপজেলার বেকুটিয়া অংশ ও পিরোজপুর সদর উপজেলার কুমিরমারা  প্রান্তে  স্হাপন করা হয়। কচা নদীর বেকুটিয়া অংশে সেতুটি  স্হাপন করায় এর মান প্রথমে  বেকুটিয়া সেতু বলা হলেও পরে  স্হানীয়দের দাবীর মুখে এর নাম দেয়া হয়  বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব অষ্টম বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সেতুটি স্হাপন করা হয়।    সেতুটি খুলে দেয়ার ফলে দক্ষিনা লের যোগাযোগের দ্বার উম্মুক্ত হয়েছে। এ অ লে ফেরী যুগের অবসান হয়েছে। পাশাপাশি  দক্ষিণাঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ এ সেতুটি চালু হওয়ায়  ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সঙ্গে খুলনা হয়ে বাংলাদেশের দক্ষিণ বঙ্গের বরিশাল, কুয়াকাটা পর্যন্ত নিরবিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্হার স্বপ্নের দুয়ার খুলে গেছে। এর ফলে এঅঞ্চলের অর্থনীতিতে একটি বিশাল পরিবর্তন আসবে বলে দাবী স্হানীয় ব্যবসায়ীদের। বঙ্গমাতা বেগম শেখ ফজিলাতুন্নেছা সেতু দক্ষিণ পশ্চিমাঞ্চলের দুই বিভাগকে এক করে দিয়েছে। সড়ক পথে এ দুই অঞ্চলের ১৬ টি জেলার সাথে নিরবিচ্ছিন্ন  যোগাযোগ ও যাতায়াতের সুযোগ তৈরি হয়েছে।


আরএইচএম/এমআর

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৬:১১ ● ৬৫ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ