অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় ইদ্রিছ ভূঞার জানাজা ও মিলাদ

প্রথম পাতা » মুক্তমত » অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় ইদ্রিছ ভূঞার জানাজা ও মিলাদ
শনিবার ● ১৯ জানুয়ারী ২০১৯


এ.কে.এম শামছুল হক রেনু

এ.কে.এম শামছুল হক রেনু

মানুষ মরণশীল (Man is mortal)। একদিন আগে আর পরে এ দুনিয়ার মোহমায়া ত্যাগ করে প্রত্যেকেরই না ফেরার দেশে চলে যেতেই হবে। বাদশাহ, ফকির, ধনী, দরিদ্র কেহই চিরস্থায়ী নহে। তৃণমূলের রাজনীতিক ইদ্রিস আলী ভূঞা অনেক স্মৃতি রেখে ১১/০১/২০১৯ ইং শুক্রবার সকাল সাড়ে দশটায় পাকুন্দিয়া উপজেলাধীন চরলক্ষীয়ার নিজ বাসভবনে ইন্তেকাল করেন। তিনি পাকুন্দিয়া উপজেলায় বেশ কয়েকবার বিএনপির সভাপতি, বেশ কয়েকবার পাকুন্দিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং বিএনপির মনোনয়নে ২০০১ ও ২০০৮ সালে কিশোরগঞ্জ- ২ পাকুন্দিয়া নির্বাচনী এলাকা হতে সংসদ নির্বাচন করেন। তিনি এক পুত্র ও তিন কন্যা সন্তানের জনক ছিলেন। একমাত্র ছেলে ৩/৪ বছর পূর্বে মৃত্যুবরণ করে থাকে। তিন বিবাহিত কন্যা ও স্ত্রী রয়েছে।

১২/০১/২০১৯ ইং শনিবার সকাল এগারটায় পাকুন্দিয়া হাইস্কুল মাঠে তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় সমাজের সকল স্তরের মানুষ এবং তার রাজনৈতিক সহকর্মীসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী শরিক হয়ে থাকে। জানাজা নামাজের আগে অনেকেই তার রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের বিভিন্ন দিক তোলে ধরে বক্তব্য প্রদান করে থাকে। জানাজা নামাজের আগে ও পরে অশ্রুসিক্ত ভালোবাসায় অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়ে। সে হৃদয় বিদারক দৃশ্য চোখে না দেখলে দুকথা লেখে বুঝানোর ভাষা বাস্তবিকই সম্ভব নয়। তিনি বড়মাপের কোনো নেতা, এমপি ও মন্ত্রী ছিলেন না। তিনি ছিলেন, উপজেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের একজন রাজনীতিক, সদালাপী, জনহিতৈষী, জনবান্ধব ও একজন সমাজসেবক। তিনি উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও দলমত, জাতি, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র নির্বিশেষে এলাকার জনগণকে দেখিয়ে গেছেন আলোর পথের অনিন্দ্য সুন্দর দিক নির্দেশনা। তার জানাজা শেষে পাকুন্দিয়া ডিগ্রী কলেজের অধ্যক্ষ কফিল উদ্দিন সাহেবের সাথে কলেজের অফিস কক্ষে আলাপচারিতায় তার বিভিন্ন স্মৃতি তর্পন আলোচনায় প্রকাশ করে। অধ্যক্ষ সাহেব ইদ্রিস আলী ভূঞার স্মৃতি তর্পন করতে গিয়ে অশ্রু সংবরণ করতে পারেননি। তিনি বলেন, এলাকার জনগণ একজন ভালো লোককে হারিয়েছে। তার সহজ সরল, সানন্দ সুন্দর ব্যবহার ও পরোপকারের কথা দুকথা বলে যেমন ব্যাখ্যা করা সম্ভব নয় তেমনি বুঝানোও সম্ভব নয়। কলেজের বিভিন্ন কাজ ও উন্নয়নের ব্যাপারে ডাকলেই যেকোন সময় তাকে হাতের কাছে পাওয়া যেত। এছাড়া তিনি ছিলেন শিক্ষানুরাগী ও জনবান্ধব। তার সম্পর্কে পাকুন্দিয়া ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক জাহাঙ্গীর হোসেন আকন্দও অনেক স্মৃতিচারণ করে থাকেন।

দলের অনেক লোক কিশোরগঞ্জ- ২ আসনে সংসদ নির্বাচনে মনোনয়ন প্রত্যাশা করলেও দলের হাই কমান্ড ও পার্লামেন্টারী বোর্ড সংসদ নির্বাচনে বারবার তাকেই মনোনয়ন দিয়ে থাকে। এছাড়া তার মৃত্যুতে দলের স্থানটি অন্য কারও দ্বারা
পূরণ করা হলেও, শূন্যস্থানটি অপূর্ণ থেকে যাওয়ার ব্যাপারে দল ও এলাকার অনেকেই যথেষ্ট আশংকা প্রকাশ করে থাকে। জানা মতে ইদ্রিছ আলী ভূঞা সম্পর্কে দুটি ঘটনার উল্লেখ না করলেই নয়। ১৯৭০ সালে পাকিস্তানের একনায়ক ও স্বৈরশাসকের বিরুদ্ধে সারাদেশে প্রচন্ড গণঅসন্তোষ, আন্দোলনের পাশাপাশি তুমুল ছাত্র আন্দোলনের দানা বেঁধে ওঠে। আমি তখন ভাসানী ন্যাপ সমর্থিত পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়ন (ইবসু) কিশোরগঞ্জ গুরুদয়াল কলেজ শাখার সভাপতি। সেই সময় কিশোরগঞ্জ মহকুমা পূর্ব বাংলা ছাত্র ইউনিয়নের নেতা সাবেক ইটনা, মিঠামইন, অষ্টগ্রাম আসনের এমপি ফরহাদ আহমদ কাঞ্চন, প্রয়াত সাবেক এমপি আব্দুল লতিফ ভূঞা, মুক্তিযুদ্ধে শহীদ সিরাজ, প্রয়াত মনোহরদীর রফিক (রফিক ভাই), পাকুন্দিয়ার প্রয়াত ভাসানী ন্যাপ নেতা রফিকুল ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়ন নেতা আব্দুল হান্নান মোল্লা, নগুয়ার প্রয়াত ছাত্র ইউনিয়ন নেতা সহকর্মী রফিক বর্তমান কিশোরগঞ্জ জেলা বিএনপি নেতা আমিরুজ্জামান, মুকুল ও আমাকেসহ প্রায় ১৫/১৬ জনকে ডিফেন্স অব পাকিস্তান রুলস (DPR) এ্যাক্টে গ্রেফতার করে ময়মনসিংহ কারাগারে পাঠানো হয়ে থাকে। সেই সময় কিশোরগঞ্জ মহকুমা ভাসানী ন্যাপের সভাপতি ছিলেন প্রয়াত অধ্যাপক আইয়ুব রেজা চৌধুরী। সেই সময় কিশোরগঞ্জের মহকুমা প্রশাসক ছিলেন খসরুজ্জামান চৌধুরী। পরবর্তী সময় মহকুমা প্রশাসকের উদ্যোগে আমরা সকলেই মুক্তি পেয়ে পরবর্তী সময় স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করে থাকি। সেই সময় আমাদের জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার ব্যাপারে গুরুদয়াল কলেজের প্রয়াত অধ্যক্ষ ওয়াসিমুদ্দিন স্যারের অবদান ও প্রচেষ্টা কোনোমতেই ভুলার নয়। সেই সময় ময়মনসিংহ কারাগারে বন্দী থাকা অবস্থায় ইদ্রিস আলী ভূঞা আমাদের সাথে সাক্ষাৎ করে কিছু শুকনা ফলফলাদি দিয়ে আসেন। দুঃসময়ে তার এ স্মৃতি কোনদিনই ভুলে যাওয়ার নয়।

কয়েকবছর আগে এলাকায় তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাকুন্দিয়া উপজেলার চর ও বীরের লোকদের মধ্যে দাঙ্গা হাঙ্গামা সৃষ্টি হলে, অন্যান্যদের মধ্যে ইদ্রিছ আলী ভূঞা জীবন বাজি রেখে এই দাঙ্গা হাঙ্গামার অবসানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে থাকে। এলাকার শ্রেণী পেশার মানুষ আজও তা স্মরণ করে থাকে। এমনিভাবে এলাকার মানুষের পাশে তার কিছু অবদান স্মৃতি হিসেবে যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য হয়ে রয়েছে।

মানুষ মানুষের জন্য। জনস্বার্থ এবং জনসেবা রাজনীতির মোদ্দা কথা হলেও, প্রায় সময়ই রাজনীতিকদের ক্ষমতার অপব্যবহার, স্বার্থপরতা ও দুর্নীতির চালচিত্র দৃশ্যপটে আসলেও, থানা ও উপজেলা কেন্দ্রিক রাজনীতি করলেও ইদ্রিছ আলী ভূঞার কাছে এ দিকটা প্রায় অনুপস্থিত ছিল বলে অনেকেই মনে করে থাকে। তাছাড়া অনেক ক্ষেত্রে প্রায় সময় হিংসা, বিদ্বেষ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতা ও অন্যের ক্ষতি করা ভুষন হলেও, হিংসা, বিদ্বোষ ও প্রতিপক্ষের কোনো ধরণের অনিষ্ট বা ক্ষতি করার মতো মনমানসিকতা তার মধ্যে লক্ষ্য করা যায়নি। এলাকায় কোনো সময় মারামারি, বিরোধ ও তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে মামলা মোকদ্দমার উপক্রম হলে যথাসাধ্য চেষ্টা করে দুপক্ষের মধ্যে শান্তি ও সমঝোতা আনয়নের ব্যাপারে তার নিরপেক্ষ ভূমিকা সর্বজন স্বীকৃত ও প্রশংসিত।

আজকাল রাজনীতি এমন অবস্থা হয়ে দাঁড়িয়েছে একদলের লোক অন্য দলের লোকদেরকে যথাবিহিত সম্মান করাতো দূরের কথা সালাম, আদাব জানাতেও কুণ্ঠাবোধ করে থাকে। এ ব্যাপারে তিনি ছিলেন একজন ব্যতিক্রমধর্মী রাজনীতিক। রাজনীতির মাঠে বক্তৃতা শেষ হওয়ার পর তিনি প্রতিপক্ষ দলের লোকদের সাথে হাসি, খুশী, খোলা মন নিয়ে কথাবার্তা, এক টেবিলে বসে চা খাওয়া, আলাপ আলোচনা ও কুশলাদি বিনিময় করতে দ্বিধা সংকোচ করতেন না। তার দর্শন ছিল রাজনীতির মাঠে রাজনীতি এবং তারপর একে অপরের সুহৃদ ও সহ মনমানসিকতারই একজন। ছাত্র জীবনে তিনি রক্ষণভাগের একজন ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ছিলেন এবং কর্মজীবনে একজন ভালো ব্যবসায়ী ছিলেন।

ইদ্রিছ আলী ভূঞার মৃত্যু সংবাদ ছড়িয়ে পড়লে তার লাশ একনজর দেখার জন্য এলাকার শ্রেণী পেশার নারী পুরুষ, তরুণ, যুবক, বৃদ্ধ সকলেই তার বাসভবনে ছুটে আসে। সেখানে মর্মস্পর্শী দৃশ্যের অবতারণা হয়। তৃণমূলের একজন রাজনীতিকদের জন্য শ্রেণী পেশার জনগণের স্বতঃস্ফুর্ত অশ্রু নিংড়ানো ভালোবাসা বাস্তবিকই স্মরনযোগ্য। তিনি ছিলেন স্পষ্টভাষী এবং জনস্বার্থে কথা বলতে কখনও পিছপা হতেন না। অন্যায়ের সাথে কোনো অবস্থাতেই তিনি আপোষকামী ছিলেন না।

তার মিলাদ মাহফিলে এলাকার সর্বস্তরের মানুষ দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মীসহ অসংখ্য শুভানুধ্যায়ী অংশগ্রহণ করে থাকে। মিলাদ মাহফিল দৃশ্যত শোক মাহফিলে পরিণত হয়ে থাকে। মিলাদ শেষে তার আত্মার শান্তি ও মাগফেরাতের জন্য যখন সর্বশক্তিমান আল্লাহার দরবারে মোনাজাত করা হয়, তখন মোনাজাতে অংশগ্রহণকারী ছোট বড় সকলের আমীন, আমীন উচ্চারণে নীরব নিস্তব্ধতা নেমে আসে। তৃণমূলের একজন রাজনীতিকের জন্য এ প্রাপ্তিকৃত কর্মের প্রাপ্তির স্বীকৃতরিই পরিস্ফুটন বলা চলে। কোনো কোনো রাষ্ট্রবিজ্ঞানীদের মতানুসারে রাজনীতির মোদ্দকথা হচ্ছে জনসেবা এবং মহান সেবার ব্রত নিয়ে জনগণের সুখে দুঃখে পাশে থাকা এবং অনেক সময় আন্দোলনের মাধ্যমে অধিকারহারা ও জনদাবীকে প্রতিষ্ঠার প্রত্যয়ে নিজেকে সম্পৃক্ত করা।

কিন্তু আজ লক্ষ্য করলে দেখা যায়, অনেক সময় জনদাবীকে পেছনে ফেলে অনেক রাজনীতিকরাই ব্যক্তি স্বার্থে ক্ষমতা ও রাজনীতিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার, প্রতিপক্ষকে কুপোঘাত, হামলা, মামলা দিয়ে নাজেহাল করার কারণে রাজনীতি ও অনেক রাজনীতিকদের প্রতি অনেক সময় সীমাহীন রোষানল পরিলক্ষিত হয়ে থাকে।

দেখা যায়, অনেকেই রাজনীতির ফাঁকফোকড়ে ক্ষমতার আঁচড়ে মন্ত্রী, এমপি হওয়ার সুযোগে প্রভূকে খুশী করার জন্য প্রতিপক্ষের হাতিকে গাধা এবং রাজদরবারের গাধাকে হাতি হিসেবে প্রদর্শন করতে দ্বিধা সংকোচবোধ করেনি। আবার অতি চাটুকারিতা ও নিজের দোষে ক্ষমতা থেকে ছিটকে পড়লে রাজদরবারের হাতিকে গাধা বানাতেও তাদের অসুবিধা হয়নি। ৩০ ডিসেম্বরের সংসদ নির্বাচনে জাসদের হাসানুল হক ইনু এবং ওয়ার্কাস পার্টির রাশেদ খান মেনন ১৪ দলীয় মহাজোটের নৌকা প্রতীক নিয়ে জয়ী হয়। এবার মন্ত্রী থেকে বাদ পড়ার কারণে কার্যকর বিরোধী দল হতে চায় বলে জানা যায় (যুগান্তর ১৫/০১/২০১৯ ইং)। কিন্তু প্রায় নয় বছর মন্ত্রী থাকা কালে অপাংক্তেয় বক্তৃতা, বিবৃতি ও ধান ভানতে শিবের গীত গেয়ে জনগণ ও রাজনৈতিক অঙ্গনে সরকারকে কতটুকু যে কোনঠাসা করেছে তা হয়তো দুজনে একবারও ভেবে দেখেনি। বিশেষজ্ঞদের মতে সুশাসন ও সুসরকারের বেশ কয়টি উপাদান ও দিকদর্শন রয়েছে। যার সুপ্রতিষ্ঠার জন্য মন্ত্রী এমপিদের গুরুত্ব অপরিসীম। এ ব্যাপারে অন্যান্যদের সাথে বাদ পড়া মহাজোটের দুইজন বাদপড়া মন্ত্রী যেভাবে বেসামাল কথা বলেছেন, নয় বছর মন্ত্রী থাকাকালীন একটি বারও আইনের শাসন ((Rule of law), Revew`wnZv (Accountability), ¯^”QZv (Trasnparancy), `ÿZv (Effectiveness and Efficiency), AšÍf‚©w³g~jKZv (Inclusiveness), AskMÖnbg~jKZv (Participatory) Ges DËi`v‡bi gvbwmKZv (Responsiveness) নিয়ে কথা বলতে দেশের মানুষ তাদেরকে খুব একটা দেখেনি। তাই বলে অন্যান্যদের সাথে মহাজোটের ওই দুইমন্ত্রীকে বাদ দেওয়াতে মহাভারত অশুদ্ধ হয়ে গেছে বলে অনেকেই তা মনে করে না। তোষামোদ ও অতি চাটুকারীতা কারও জন্যেই সুফল বয়ে আনেনা। ইতিহাসের ভুরি ভুরি প্রমানকে খাটো করে দেখার সুযোগ একেবারেই পরাহত।

যাহোক, যেমনিভাবে জনগণের অকৃত্রিম অশ্রুসিক্ত ভালোবাসভয় তৃণমূলের রাজনীতিক ইদ্রিস আলী ভূঞা মৃত্যুর পরও তার জানাজা ও মিলাদ মাহফিলে যে ফুলেল শুভেচ্ছায় অভিসিক্ত হয়ে সমাহিত হয়েছেন এমনিভাবে মানুষের অভাব ও দুঃসময়ে পাশে থেকে যেকোন ব্যক্তি, শাসক, প্রশাসক, এমপি, মন্ত্রী, যে কোনো রাজনৈতিক দলের দায়িত্ব প্রাপ্ত ব্যক্তি কর্মজীবনে যদি কিছু করে যায় ইহা যেমন তাকে মহিমান্বিত করে থাকে তেমনি পরকালের পথকে সুপ্রশস্ত ও সুপ্রসন্ন করে থাকে। তাই দেশ, জাতি ও সমাজ গঠনে স্বচ্ছ রাজনীতিকদের কোনো বিকল্প নেই। রাজনীতিতে বক্ষক নয়, রক্ষকই হোক অনাবিল সুন্দর ও মহিমান্বিত চলার পথ ও রাজনীতিকদের দিকদর্শন।

নিবন্ধের বাইরে হলেও, আসন্ন উপজেলা নির্বাচন নিয়ে কিছু কথা। ১৯৯৮ এর ১৭ (১) (গ) অনুযায়ী উপজেলা পরিষদের মেয়াদ শেষ হওয়ার তারিখের আগের ১৮০ দিনের মধ্যে ভোট গ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সর্বশেষ ২০১৪ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সিইসি কাজী রকিব উদ্দিন আহমদের সময় প্রথম ধাপে ৯৭টি, দ্বিতীয় ধাপে ১১৭টি উপজেলা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ওই বছর সব মিলিয়ে সাত ধাপে উপজেলা নির্বাচন হয়ে থাকে। জানা যায়, ২০১৯ সালের জানুয়ারীর শেষের দিকে বা ফেব্রুয়ারীর শুরুতে উপজেলা নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা হতে পারে। ১৯৮৫ সালে প্রথমবার, ১৯৯০ সালে দ্বিতীয় বার, ২০০৯ সালের তৃতীয়বার এবং ২০১৪ সালে ৪র্থ উপজেলা নির্বাচন হয়ে থাকে। কিন্তু সংসদ সদস্য উপজেলার উপদেষ্টা হওয়াতে কার্যত উপজেলা চেয়ারম্যানের ক্ষমতা অনেক সময় দিকভ্রান্ত হয়ে থাকে।

৩০ ডিসেম্বরের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর জনগণ, রাজনৈতিক মহল ও গণমাধ্যমের আলোকে আসন্ন উপজেলা নির্বাচন যাতে ক্রেডিবল, একসেপ্টেবল ও লেভেল প্লেয়িং ফিল্ডের আলোকে গ্রহণযোগ্য শান্তিপূর্ণভাবে অনুষ্ঠিত হয় ইহাই দেখার বিষয়। পরিশেষে বলব, ইদ্রিছ আলী ভূঞা একজন ইউপি চেয়ারম্যান, একটি বড়দলের কয়েকবার উপজেলা সভাপতি ও তৃণমূলের গ্রহণযোগ্য রাজনীতিক হিসেবে মৃত্যুর পর যে সম্মান নিয়ে অনন্ত পরকালে চলে গেছেন, ইহা যেমন দেখার বিষয় তেমনি অনেকেরই ভাবনারও কথা।
এ.কে.এম শামছুল হক রেনু
লেখক কলামিষ্ট

বাংলাদেশ সময়: ১০:০৯:৩০ ● ৬৫৯ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ