
সাগরকন্যা ডেস্ক
ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার শান্তি আলোচনা ভণ্ডুল হওয়ার পেছনের কারণ নিয়ে ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। ইরানের দাবির বিপরীতে তিনি জানিয়েছেন, আলোচনার সময় নয়, বরং আলোচনা শেষে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স নিজেই তাকে ফোন করে পরিস্থিতি সম্পর্কে বিস্তারিত অবহিত করেন।
ইরান দাবি করেছিল, আলোচনার সময় ভ্যান্সের কাছে নেতানিয়াহুর ফোন আসার পর পরিস্থিতি বদলে যায় এবং আলোচনা ইসরায়েলের স্বার্থের দিকে মোড় নেয়। তবে সোমবার জেরুজালেমে মন্ত্রিসভার বৈঠকে নেতানিয়াহু এই দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি ইসলামাবাদ থেকে ফেরার পথে বিমান থেকেই আমাকে ফোন করেছিলেন।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন প্রতিদিন যেভাবে অংশীদারদের ব্রিফ করে, সেভাবেই ভ্যান্স আলোচনার অগ্রগতি এবং শেষ পর্যন্ত ব্যর্থতার কারণ তাকে জানিয়েছেন।
নেতানিয়াহুর দাবি, আলোচনার ভাঙনের জন্য ইরানই দায়ী। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধবিরতি মেনে চলা এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার প্রাথমিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে। ‘এই নির্লজ্জ লঙ্ঘন যুক্তরাষ্ট্র সহ্য করতে পারেনি এবং তাদের পক্ষ থেকেই আলোচনা শেষ করা হয়েছে,’ বলেন তিনি।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্রের মূল লক্ষ্য এখনও অপরিবর্তিত রয়েছে- ইরান থেকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম অপসারণ এবং ভবিষ্যতে দীর্ঘ সময় ধরে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ রাখা।
ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের সিদ্ধান্তের প্রতি সমর্থন জানিয়ে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সমন্বয় অব্যাহত রয়েছে। দুই দেশের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হয়েছে- এমন ধারণাকে তিনি ‘বাস্তবতার উল্টো’ বলে উল্লেখ করেন।
এছাড়া বৈঠকে তিনি দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও মন্ত্রীদের আপডেট দেন। নেতানিয়াহু বলেন, সীমান্ত এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনী শত্রুপক্ষকে পিছু হটিয়ে একটি শক্তিশালী নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলছে, যা ভবিষ্যতে অনুপ্রবেশ ও ট্যাংকবিধ্বংসী অস্ত্রের ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে।
সূত্র: বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম