
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, চরফ্যাশন (ভোলা)
ভোলার চরফ্যাশনে লাইসেন্সবিহীন ইটভাটার বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের এক মাস পর অবশেষে ১৭টি অবৈধ ভাটার মধ্যে ২টিতে অভিযান চালিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন।
পরিবেশ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, উপজেলার ৩৩টি ইটভাটার মধ্যে ১৭টিই লাইসেন্সবিহীন। প্রতি বছর নভেম্বর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত মৌসুমে এসব ভাটায় বনের কাঠ পুড়িয়ে ইট প্রস্তুত করা হলেও দীর্ঘদিন কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। এতে একদিকে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে পড়ছে, অন্যদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, মৌসুমের শেষ দিকে এসে নামমাত্র জরিমানা করেই দায় সারায় কর্তৃপক্ষ, ফলে মালিকরা লাইসেন্স নিতে আগ্রহী হচ্ছেন না এবং অবৈধ ভাটার সংখ্যা বাড়ছে।
জানা গেছে, বৈধ-অবৈধ মিলিয়ে অধিকাংশ ইটভাটা গড়ে উঠেছে ঘনবসতিপূর্ণ এলাকা, নদীভাঙনপ্রবণ অঞ্চল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পাশে ও ফসলি জমিতে, যা বিদ্যমান নীতিমালার পরিপন্থী।
‘অবৈধ ইটভাটায় পুড়ছে বনের কাঠ, জনস্বাস্থ্য হুমকির মুখে’ শিরোনামে এক মাস আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশের পর বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) অভিযান পরিচালনা করা হয়। এদিন দুলারহাট এলাকার নাভানা ব্রিকস ও আবদুল্লাহপুর এলাকার এনাম ব্রিকসে অভিযান চালিয়ে আগুন নিভিয়ে ড্রাম চিমনি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়। এ সময় নাভানা ব্রিকসের মালিককে এক লাখ টাকা জরিমানা করেন ভোলা জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আজম।
অভিযানের আগে বিষয়টি নিয়ে যোগাযোগ করা হলে পরিবেশ অধিদপ্তর ভোলার সহকারী পরিচালক মো. তোতা মিয়া অভিযানে অংশগ্রহণের বিষয়টি এড়িয়ে যান। স্থানীয় সংবাদকর্মীদের অভিযানে না রাখার অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বিষয়টি জানানো হয়নি। তবে আগুন নিভিয়ে ইট ঠান্ডা হওয়ার পর অভিযান চালানোর অভিযোগ অস্বীকার করেন তিনি।
এ বিষয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ আজম বলেন, ‘অভিযানে সাংবাদিকদের না রাখার কোনো নির্দেশ আমি দিইনি। অভিযানের বিষয়ে সাংবাদিকরা যোগাযোগ করেছিলেন, তবে তখন অভিযান শেষ হয়ে গিয়েছিল।’