
মোঃ রুহুল আমিন, নেছারাবাদ (পিরোজপুর) থেকে
নেছারাবাদে আটঘর কুড়িয়ানা ও স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী একটি সরকারি খাল দীর্ঘদিন ধরে দখল ও ভরাটের কারণে প্রায় বিলীন হয়ে যাওয়ায় এলাকাবাসী দ্রুত পুনরুদ্ধার ও পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন।
শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সরেজমিনে দেখা যায়, প্রায় ৩৩ শতাংশ জায়গাজুড়ে থাকা ৩৫ ফুট প্রস্থ ও প্রায় ৩০০ ফুট দৈর্ঘ্যের খালটি কোথাও কোথাও সংকুচিত হয়ে মাত্র দুই ফুটে নেমে এসেছে, দুই পাশে গড়ে উঠেছে বসতবাড়ি ও পাকা-আধা স্থাপনা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, খালটি দখল ও ভরাটের কারণে দীর্ঘদিন ধরে পানি প্রবাহ বন্ধ হয়ে গেছে। খালের পশ্চিমাংশে তানভীর হোসেন নামের এক আইনজীবী সহকারির ভবন নির্মাণকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়। সেখানে সেফটি পাইলিং ও গাইড ওয়ালের কাজ চলাকালে প্রশাসন তা বন্ধ করে দেয়।
স্থানীয় বাসিন্দা ও প্রবীণ মোঃ ইকবাল তালুকদার বলেন, একসময় এই খালে বড় নৌকা চলাচল করত, কিন্তু এখন এটি প্রায় মৃতপ্রায়। বাসিন্দা আসাদ অভিযোগ করে বলেন, খাল দখল করে ঘরবাড়ি নির্মাণের কারণে জলাবদ্ধতার ঝুঁকি বাড়ছে। আরেক বাসিন্দা মোঃ খোকন তালুকদার বলেন, খাল খননের উদ্যোগ চললেও উল্টো দখল ও স্থাপনা নির্মাণ দুঃখজনক।
অভিযোগের বিষয়ে তানভীর হোসেন বলেন, তিনি প্রায় সাত বছর আগে জমি ক্রয় করে নিজের জায়গাতেই ভবন নির্মাণ করছেন এবং খাল দখলের অভিযোগ অস্বীকার করেন। তিনি আরও দাবি করেন, খাল পুনরুদ্ধারের জন্য তিনি ইউএনও, ভূমি অফিস ও জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
এ বিষয়ে স্বরূপকাঠি সদর ইউনিয়নের তহসিলদার বরুণ কর সাগরকন্যাকে বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে পাইলিং বন্ধ করা হয়েছে, কারণ সেটি খালের অংশ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় ৪০ বছর ধরে ধীরে ধীরে খালটি ভরাট ও দখলের শিকার হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ জলাবদ্ধতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। তারা দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপে খালটি দখলমুক্ত করে পুনঃখননের দাবি জানিয়েছেন, যাতে এলাকার পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা স্বাভাবিক হয়।