
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে দখল করে গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মহিলা দল নেত্রীর স্বামী মিলন বেপারীর বিরুদ্ধে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) সকালে উপজেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের তালা ভেঙে ভেতরে গাছের জ্বালানি কাঠসহ বিভিন্ন মালামাল রেখে সেটি গুদামঘর হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এর আগে ৫ আগস্ট ২০২৪ আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ওই কার্যালয়ে একাধিকবার হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে।
বর্তমানে রাজনৈতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ থাকা আওয়ামী লীগ নেতাদের দাবি, প্রায় দুই শতক আগে খাস জমি যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে বন্দোবস্ত নিয়ে দলীয় কার্যালয় নির্মাণ করা হয়েছিল। তবে পরবর্তীতে ক্ষমতার পরিবর্তনের পর ওই কার্যালয় দখল ও ভাঙচুরের শিকার হয় বলে তারা অভিযোগ করেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মিলন বেপারী বলেন, ‘আমি কোনো তালা ভাঙিনি, এটি খোলা ছিল। ঝড়ে পড়ে যাওয়া আমার বাড়ির গাছের গুঁড়ি সেখানে রেখেছি মাত্র। ওই জায়গা আমার, যথাযথ কাগজপত্র আছে। বিষয়টি নিয়ে পরে সংবাদ সম্মেলন করে বিস্তারিত জানাবো।’
জাতীয়তাবাদী মহিলা দল কলাপাড়া উপজেলা শাখার সভানেত্রী সালমা বেগম লিলি বলেন, ‘আমার বিয়ের আগ থেকেই জায়গাটি আমার শ্বশুরের ছিল। সেখানে টিনের ঘর ও ফলজ গাছ ছিল। পরে আওয়ামী লীগ নেতারা জোরপূর্বক গাছ কেটে দলীয় কার্যালয় বানান এবং দীর্ঘদিন সেখানে রাজনৈতিক কার্যক্রম চালান।’
কলাপাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল মোতালেব তালুকদার হোয়াটসঅ্যাপে মন্তব্য দিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেন।
উপজেলা বিএনপির সম্পাদক অ্যাডভোকেট মো. হাফিজুর রহমান চুন্নু বলেন, ‘এ বিষয়টি আমার জানা নেই। বিএনপি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ড সমর্থন করে না। এটি সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত বিষয়, দলীয়ভাবে এর দায় নেওয়ার সুযোগ নেই।’