সর্বশেষ

বরিশালে হাম আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে রোগীর চাপ

হোম পেজ » লিড নিউজ » বরিশালে হাম আতঙ্ক বাড়ছে: ২৪ ঘণ্টায় দুই শিশুর মৃত্যু, হাসপাতালে রোগীর চাপ
শুক্রবার ● ১০ এপ্রিল ২০২৬


 

ছবি সংগৃহীত

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরিশাল

বরিশাল বিভাগে হাম-সদৃশ উপসর্গে শিশুমৃত্যু বাড়তে থাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে বিভাগজুড়ে একই উপসর্গে মৃত শিশুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৪।

 

হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, মৃত শিশুদের একজন দুই বছর বয়সী সাদিয়া, তার বাড়ি মুলাদী উপজেলার কাজিরচর ইউনিয়নে। অপরজন নয় মাস বয়সী রাকিব, বানারীপাড়া উপজেলার চাখার ইউনিয়নের বাসিন্দা। গত ৮ এপ্রিল দুপুরে জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে লালচে ফুসকুড়িসহ হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে তারা হাসপাতালে ভর্তি হয়। শুক্রবার ভোরে এক ঘণ্টার ব্যবধানে তাদের মৃত্যু হয়- ভোর পৌনে চারটায় সাদিয়া এবং পৌনে পাঁচটায় রাকিব মারা যায়।

 

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. একেএম মুশিউল মনীর জানান, ‘হাম-সদৃশ উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া অনেক শিশুর অবস্থাই দ্রুত অবনতি হচ্ছে। তাদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা দেওয়ার চেষ্টা চলছে।’ তাঁর তথ্য অনুযায়ী, এ হাসপাতালে এখন পর্যন্ত একই উপসর্গে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।

 

শিশু ওয়ার্ডে রোগীর চাপ স্পষ্ট। শয্যার তুলনায় রোগীর সংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক অভিভাবক সন্তানদের নিয়ে মেঝেতে অবস্থান করছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ৩১ জন শিশু ভর্তি হয়েছে এবং একই সময়ে ২৮ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯২ জন শিশু।

 

চিকিৎসকেরা সাগরকন্যাকে জানান, অধিকাংশ শিশু জ্বর, সর্দি, কাশি ও শরীরে ফুসকুড়ি নিয়ে হাসপাতালে আসছে। অনেক ক্ষেত্রে দেরিতে হাসপাতালে আনার কারণে জটিলতা বাড়ছে এবং চিকিৎসা কঠিন হয়ে পড়ছে।

 

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বিভাগজুড়ে হাম-সদৃশ রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। টিকাদান কর্মসূচির ঘাটতি এবং অভিভাবকদের সচেতনতার অভাবকে এর অন্যতম কারণ হিসেবে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, শিশুদের সময়মতো টিকা নিশ্চিত করা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া এখন অত্যন্ত জরুরি।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৪৭:৩৫ ● ১৮ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ