
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, গৌরনদী (বরিশাল)
গৌরনদী উপজেলার বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে রোগীর পরীক্ষায় ছাড় দেওয়াকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক পল্লী চিকিৎসককে মারধর ও আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় আহত চিকিৎসক বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জানা যায়, পদ্মা ডায়াগনস্টিক সেন্টারে প্রায় ছয় মাস ধরে সেবা দিয়ে আসছিলেন পল্লী চিকিৎসক আরিফুল ইসলাম। গত ২৫ মার্চ এক দরিদ্র রোগীকে প্রাথমিক পরীক্ষা দেওয়ার পর তিনি মানবিক বিবেচনায় পরীক্ষায় ৪০ শতাংশ ছাড়ের সুপারিশ করেন। এ বিষয়টি নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক মো. হান্নান সরদারের সঙ্গে তার কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে তা হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং অভিযোগ অনুযায়ী হান্নান সরদার চিকিৎসকের মাথায় চেয়ার দিয়ে আঘাত করেন। পরে তাকে একটি কক্ষে আটকে রেখে মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ারও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
পরে স্থানীয়রা আহত অবস্থায় চিকিৎসককে উদ্ধার করে গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় চিকিৎসকের স্বজনরা গৌরনদী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অন্যদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের মালিক হান্নান সরদার ও তার সহযোগী মোশাররফ সরদার দাবি করেন, পরীক্ষায় ছাড় নিয়ে অতিরিক্ত ৩০ শতাংশ দাবি করাকে কেন্দ্র করেই মূলত বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। তাদের দাবি, এ ঘটনায় তারাও আহত হয়েছেন এবং প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
গৌরনদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. ফকরুল ইসলাম মৃধা এবং গৌরনদী মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ মো. তারিক হাসান রাসেল পৃথকভাবে জানান, বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।