
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মহিপুর (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর মহিপুরে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে বিরোধের ঘটনায় যুবদল নেতা মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে হামলা, ভাঙচুর, শ্লীলতাহানি ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৬ জন আহত হয়েছেন, যার মধ্যে একজনের অবস্থা গুরুতর।
রবিবার (১৫ মার্চ) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মহিপুর থানার ডালবুগঞ্জ ইউনিয়নের মিরপুর বায়তুল জান্নাত জামে মসজিদে ইফতার বিতরণকে কেন্দ্র করে ঘটনা ঘটে। অভিযোগ অনুযায়ী, রুমান নামে ১৩ বছর বয়সী এক শিশুকে তুচ্ছ কারণে থাপ্পড় মারার পর তার পরিবার ও বৃদ্ধ প্রপিতামহের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা থেকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়।
এরপর ডালবুগঞ্জ ইউনিয়ন যুবদলের সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. জাকির হোসেনের নেতৃত্বে ওয়ারেছ পহলান ও তার পরিবারের সঙ্গে ১০-১২ জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র নিয়ে রুহুল আমিনের বাড়িতে হামলা চালিয়ে তার বাবা ৮০ বছর বয়সী হায়দার আলী ফকিরকে কুপিয়ে গুরুতর জখম করে। পাশাপাশি রুহুল আমিনের স্ত্রী ময়না বেগম ও মা, পুত্রবধূদের উপর শ্লীলতাহানি এবং ঘরের ভাঙচুর ও ৪০ হাজার টাকা নগদসহ স্বর্ণের চেইন ও কানের দুল লুটপাটের অভিযোগও রয়েছে।
আহতদের কুয়াকাটা ২০ শয্যা হাসপাতাল এবং কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়েছে। গুরুতর আহত হায়দার আলী ফকিরকে পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী রুহুল আমিন ফকির বলেন, জাকির হোসেনের নেতৃত্বে তারা আমার বাড়িতে ঢুকে তছনছ করেছে। আমার বৃদ্ধ বাবাকে দা দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করেছে। আমাকে বাধা দিতে গেলে এলোপাতাড়ি পেটানো হয়।
ময়না বেগম অভিযোগ করেন, হামলাকারীরা আমাকে টেনে-হিঁচড়ে শ্লীলতাহানি করেছে ও স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নিয়েছে।
মসজিদ কমিটির সভাপতি আবুবকর সিদ্দিক মীর জানান, আমরা শান্তি বজায় রাখার চেষ্টা করেছি, কিন্তু হামলাকারীরা কোনো কথা শোনেনি। আমি বাধা দিতে গেলে আমাকে কুপিয়ে আহত করা হয়।
অভিযুক্ত জাকির হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। মহিপুর থানা যুবদলের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান মোল্লা জানিয়েছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাব্বত খান বলেন, এজাহার পাওয়া গেছে এবং পুলিশ বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করছে। দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।