
মেজবাহউদ্দিন মাননু, কলাপাড়া (পটুয়াখালী) থেকে
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় এসএসসি পরীক্ষায় এক পরীক্ষার্থীকে নকল সরবরাহ ও কথিত সিকবেডে পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেওয়ার ঘটনায় দুই শিক্ষককে পরীক্ষার সব দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্ত প্রতিবেদনসহ লিখিত সুপারিশ পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন খেপুপাড়া বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জহিরুল ইসলাম ও মেজবা উদ্দিন। গত ৩ মে গণিত পরীক্ষার দিনে অসদুপায় অবলম্বনের দায়ে খেপুপাড়া মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের এক পরীক্ষার্থীকে ভিজিলেন্স টিম বহিষ্কার করলে ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসে।
পরবর্তীতে কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও এসএসসি এবং সমমান পরীক্ষার পরিচালনা কমিটির সভাপতি মোঃ কাউছার হামিদের নির্দেশে এক সদস্যবিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। তদন্ত করেন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. ইয়াসীন সাদেক।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযুক্ত দুই শিক্ষক পরীক্ষার্থীকে বোর্ডের সরবরাহকৃত অতিরিক্ত খাতায় গণিতের সমাধান লিখে সরবরাহ করেন এবং সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে ‘সিকবেড’ ব্যবস্থায় পরীক্ষা দেওয়ার সুযোগ করে দেন। এছাড়া কক্ষ পরিদর্শককে ভয়ভীতি দেখিয়ে নকল কার্যক্রমে সহায়তা করা হয়েছে বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, অতিরিক্ত খাতার হাতের লেখার সঙ্গে অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিনের হাতের লেখার মিল পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শককে চাপ প্রয়োগ করে অনিয়মিতভাবে সিকবেড কক্ষে পরীক্ষা গ্রহণে বাধ্য করা হয়।
তদন্তে উঠে আসে, পরীক্ষার কক্ষ পরিদর্শক দেবাশীষ চন্দ্র সিকদার জবানবন্দীতে জানান- এমসিকিউ শেষে সৃজনশীল প্রশ্নের ছবি তুলে উত্তরপত্র প্রস্তুত করা হয় এবং পরে অতিরিক্ত খাতায় সমাধান লিখে পরীক্ষার্থীকে সরবরাহ করা হয়।
কেন্দ্র সচিব জানান, অভিজ্ঞতার অভাব থাকায় তাকে চাপ প্রয়োগ করে সিসি ক্যামেরাবিহীন কক্ষে পরীক্ষা নিতে বাধ্য করা হয় এবং এ ঘটনায় আর্থিক লেনদেনের বিষয়ও তিনি তদন্ত টিমকে জানান।
তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইয়াসীন সাদেক তার মতামতে উল্লেখ করেন, ঘটনাটি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের প্রবিধানমালা-২০২৪ এবং পাবলিক এক্সামিনেশন অ্যাক্ট ১৯৮০ অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ। তাই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কাউছার হামিদ বলেন, অভিযুক্ত দুই শিক্ষককে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে এবং বিস্তারিত প্রতিবেদন শিক্ষা বোর্ডসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।
অভিযুক্ত শিক্ষক মেজবা উদ্দিন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, কেন্দ্র সচিব ও কক্ষ পরিদর্শকের দায় আমাদের ওপর চাপানো হচ্ছে এবং এটি একটি ষড়যন্ত্র।