
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, দশমিনা (পটুয়াখালী)
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার হাজিরহাট এলাকায় ভয়াবহ নদীভাঙনে আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নদীর অব্যাহত ভাঙনে বসতভিটা, সড়ক ও ধর্মীয় স্থাপনা হুমকির মুখে পড়ায় এলাকায় চরম উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেছেন নুরুল হক।
শুক্রবার দুপুরে উপজেলার সদর ইউনিয়নের হাজিরহাট এলাকায় গিয়ে নদীভাঙনের পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেন তিনি। এ সময় স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শন শেষে প্রতিমন্ত্রী বলেন, হাজিরহাটের নদীভাঙনের দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি সরকারের নজরে আসে। পরে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সঙ্গে জরুরি আলোচনা করে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হয়। ইতোমধ্যে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড- এর মাধ্যমে ভাঙনকবলিত এলাকায় জিও ব্যাগ ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, শুধু অস্থায়ী ব্যবস্থা নয়, স্থায়ীভাবে ভাঙন রোধে ব্লক দিয়ে শক্তিশালী প্রতিরক্ষা বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোকে সুরক্ষার আওতায় আনার চেষ্টা চলছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, গলাচিপা ও দশমিনা অঞ্চলে নদীভাঙন দীর্ঘদিনের সমস্যা। নদীর মাঝখানে চর জেগে ওঠা এবং নাব্যতা সংকটের কারণে ভাঙনের মাত্রা বেড়েছে। এ সমস্যা সমাধানে নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে, বেলা সাড়ে ১১টায় উপজেলা মৎস্য অফিসের উদ্যোগে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের ‘ইলিশ সম্পদ উন্নয়ন ও ব্যবস্থাপনা প্রকল্প’-এর আওতায় জেলেদের মাঝে খাদ্য সহায়তা বিতরণ করেন প্রতিমন্ত্রী। দশমিনা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাহমুদ হাসান মৃধার সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে ৮০০ জেলের মাঝে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়।
প্রত্যেক জেলেকে দুই মাসের জন্য ১২ কেজি আটা, ৮ কেজি ডাল, ১৬ কেজি আলু এবং ১০ লিটার সয়াবিন তেল দেওয়া হয়।
এ সময় দশমিনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আতিকুল ইসলাম, গণঅধিকার পরিষদের নেতাসহ স্থানীয় রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, সাংবাদিক ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ উপস্থিত ছিলেন।