
আল-আমিন হোসাইন, নাজিরপুর (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগী ভর্তির সংখ্যা ও খাবারের মান নিয়ে অসঙ্গতির অভিযোগ উঠেছে। হাসপাতালের দাপ্তরিক হিসাবে মার্চ মাসের প্রথম পাঁচ দিনে তিন দিনে ৫০ জন এবং ৪ ও ৫ তারিখে যথাক্রমে ৪৫ ও ৪৩ জন রোগী ভর্তি দেখানো হলেও, বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) বেলা ১১টায় সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, বাস্তবে রোগীর সংখ্যা তার অর্ধেকেরও কম। হাসপাতালের পুরুষ, মহিলা ও শিশু ওয়ার্ডে অনেক বেড ফাঁকা রয়েছে।
হাসপাতালে ভর্তি রোগীদের খাবারের মানও সঠিক নয়। সপ্তাহে পাঁচ দিন দুই বেলা ১২৮ গ্রাম মাছ বা মুরগি দেওয়ার কথা থাকলেও, বাস্তবে একজন রোগী দুই বেলায় ৫০ গ্রামও খাবার পান না বলে অভিযোগ রয়েছে। মাছের দাম বেশি হওয়ায় প্রায়ই মাছের পরিবর্তে ব্রয়লার মুরগি দেওয়া হচ্ছে। ডাল পানির মতো পাতলা, ভাত ও পাউরুটি নিম্নমানের, কলার আকার ছোট- সরেজমেনে গেলে এসব তথ্য রোগীদের মুখ থেকেই শোনা যায়।
রোগীরা জানিয়েছেন, দরপত্র অনুযায়ী খাবার দেওয়া হয় না। সকালের নাশতা, দুপুর ও রাতের খাবারের মান ও পরিমাণ যথেষ্ট নয়। মাছ প্রায় জোটে না।
দরপত্রের শর্ত অনুযায়ী ৫০ শয্যার হাসপাতালের রোগীপ্রতি প্রতিদিনের খাবারের বরাদ্দ ১৭৫ টাকা, বিশেষ দিবসে ২০০ টাকা। দুপুর ও রাতে দেওয়ার কথা ২৮-ইরি চালের ৩৩০ গ্রাম ভাত। তবে বাস্তবে আরও নিম্নমানের স্বর্ণা ইরি চাল, কম পরিমাণের মাছ-মুরগি, ও পাতলা ডাল দেওয়া হচ্ছে। ফলে, বরাদ্দের অর্ধেক অর্থ ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে রোগীদের কাছ থেকে সরাসরি বেরিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
নাজিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মশিউর রহমান জানান, খাবারের বিষয়টি ঠিকাদারের দায়িত্ব, আর রোগী ভর্তির বিষয়টি আরএমও দেখেন। আরএমও ডাক্তার মো: মোস্তাফা কায়সারকে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তথ্য প্রদানে সহযোগীতা না করে উল্টো সংবাদ প্রকাশে নিষেধ করেছেন।
জানা গেছে, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইসতিয়াক কন্সট্রাকশন। প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন উপজেলা চেয়ারম্যানের সি.এ মো: ইয়াসির আরাফাত, যিনি বিলের চেকেও স্বাক্ষর করেন। প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে যুক্ত মুরগীর খামারী মো: রেজাউল করিম মোল্লার স্ত্রী সাংবাদিক পরিচয় শুনে কল কেটে দেন।
নাজিরপুর উপজেলা পরিষদের সি.এ ইয়াসির আরাফাতের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে ফোনে পাওয়া যায়নি। পিরোজপুর জেলা সিভিল সার্জন ডা: মো: মতিউর রহমান সাগরকন্যাকে বলেন, বিষয়টি আপত্তিকর, খোঁজ নিয়ে দেখা হবে। জেলা প্রশাসক মো: আবু সাঈদ জানিয়েছেন, সরকারি চাকরি করে অনুমতি ছাড়া অন্য পেশায় থাকার সুযোগ নেই, আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।