
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
একদিন পর আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মতো বাংলাদেশেও যথাযোগ্য মর্যাদায় দিনটি উদযাপনের প্রস্তুতি চলছে। তবে বরগুনা সদর উপজেলার ফুলঝুড়ি ইউনিয়নের গৌরীচন্না বাজারে নির্মিত শহীদ মিনারটি কয়েক বছর ধরে কার্যত পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ইউনিয়ন ভূমি অফিস শহীদ মিনারটি নিজেদের বাউন্ডারি ওয়ালের ভেতরে রেখে দেয়ায় সেখানে প্রবেশের পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
জানা যায়, ১৯৯৯ সালের ১৭ নভেম্বর UNESCO ২১ ফেব্রুয়ারিকে “আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস” হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ২০০০ সাল থেকে বিশ্বের ১৯১টি দেশে দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ২০০৩ সালে গৌরীচন্না বাজার কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের উদ্যোগে ভাষা শহীদদের স্মরণে বাজারের ভূমি অফিসের পূর্ব পাশে এবং বরগুনা-বাকেরগঞ্জ আঞ্চলিক মহাসড়কের পশ্চিম পাশে একটি শহীদ মিনার নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রতিবছর সেখানে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হতো।
তবে ২০১৯ সালে ফুলঝুড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষ শহীদ মিনারটি নিজেদের সীমানার ভেতরে রেখে বাউন্ডারি ওয়াল নির্মাণ করে। ফলে শহীদ মিনারে যাওয়ার কোনো পথ খোলা নেই। অন্যদিকে বাজারের কিছু ব্যবসায়ী সেখানে আবর্জনা ফেলায় মিনারটি অযত্নে পড়ে আছে। দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারেরও কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন।
শহীদ মিনার নির্মাণের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বিশ্বাস বলেন, একসময় গৌরীচন্না বাজারে মাতৃভাষা দিবসে শ্রদ্ধা জানানোর কোনো শহীদ মিনার ছিল না। তিনি, প্রয়াত প্রবাসী জসীম উদ্দিনসহ স্থানীয় যুবকদের উদ্যোগে এটি নির্মাণ করেন। ভূমি অফিসকে মিনারটি বাইরে রেখে বাউন্ডারি নির্মাণের অনুরোধ করা হলেও তা মানা হয়নি বলে তিনি অভিযোগ করেন।
স্থানীয় যুবক আনিস মিয়া বলেন, অমর একুশে ফেব্রুয়ারিতে তারা নিয়মিত শহীদ মিনারে শ্রদ্ধা জানাতেন। ভূমি অফিসের সিদ্ধান্তের কারণে এখন সেখানে প্রবেশ করা যাচ্ছে না। বাউন্ডারি সরিয়ে সবার জন্য মিনার উন্মুক্ত করার দাবি জানান তিনি।
বরগুনা জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট আবদুল ওয়াসী মতিন বলেন, ভূমি অফিস কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত বাউন্ডারি সরিয়ে নিয়ে শহীদ মিনার সবার জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বরগুনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান বলেন, বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখা হচ্ছে। প্রয়োজন হলে ২১ ফেব্রুয়ারির আগেই শহীদ মিনারে ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর ব্যবস্থা করা হবে।