কুয়াকাটার আবাসিক এলাকায় শুঁটকি গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা ও পর্যটক

হোম পেজ » কুয়াকাটা » কুয়াকাটার আবাসিক এলাকায় শুঁটকি গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা ও পর্যটক
মঙ্গলবার ● ২ ডিসেম্বর ২০২৫


কুয়াকাটার আবাসিক এলাকায় শুঁটকি গন্ধে অতিষ্ঠ স্থানীয়রা ও পর্যটক

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

কুয়াকাটার নবীনপুর আবাসিক এলাকা শুঁটকি উৎপাদনের তীব্র গন্ধে বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। কয়েকজন ব্যবসায়ী এলাকায় জমি দখল করে খোলা আকাশের নিচে কাঁচা মাছ শুকিয়ে শুঁটকি উৎপাদন চালাচ্ছেন। এতে অসুস্থ হচ্ছে শিশু, গর্ভবতী নারী, বয়স্ক ও পর্যটকরা। স্থানীয়রা দ্রুত এ কার্যক্রম আবাসিক এলাকা থেকে সরানোর দাবি জানিয়েছেন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে দেখা যায়, নবীনপুর এলাকায় বিস্তীর্ণ জায়গায় কাঁচা মাছ বিছিয়ে শুঁটকি তৈরির কাজ চলছে। পাশেই রয়েছে ঘরবাড়ি, স্কুল ও মসজিদ।

স্থানীয় বাসিন্দা গৃহিনী মাহিনুর বেগম বলেন, দিন-রাত একই গন্ধ। ঘরেও থাকা যায় না। আমাদের ছোট শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এত বড় আবাসিক এলাকায় শুঁটকি শুকানোর কাজ কীভাবে চলতে পারে, বুঝি না। আমরা দ্রুত এটি বন্ধ চাই। একইভাবে সেখানকার আব্দুল মন্নান বলেন, গর্ভবতী নারীরা সবচেয়ে বেশি ভুগছেন। মাথা ঘোরা, বমি ভাব থাকে। অনেক সময় ঘর ছেড়ে বাইরে যাওয়া যায় না। বহুবার অভিযোগ করেছি, কিন্তু কোনো ফল হয়নি।

ঢাকা থেকে আসা পর্যটক শামীম আহসান বলেন, পর্যটন এলাকায় শুঁটকি গন্ধে রাস্তায় হাঁটা কঠিন। হোটেলের রুমেও থাকা যায় না। প্রশাসনকে ভিন্ন জোন নির্ধারণ করে শুঁটকি উৎপাদনের পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানাই।

উপকূল পরিবেশ রক্ষা আন্দোলন (উপরা)-এর আহ্বায়ক কেএম বাচ্চু উদ্বেগ জানিয়ে বলেন, আবাসিক এলাকায় শুঁটকি উৎপাদন পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর এবং জনস্বাস্থ্যের ওপর হুমকি সৃষ্টি করছে। আমরা বারবার প্রশাসনকে জানিয়েছি, কিন্তু তারা পদক্ষেপ নিচ্ছে না। অবিলম্বে এসব কার্যক্রম সমুদ্র উপকূল বা নির্ধারিত শিল্পাঞ্চলে সরাতে হবে।

কলাপাড়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও কুয়াকাটা পৌরসভার প্রশাসক মো. ইয়াসীন সাদেক বলেন, আবাসিক এলাকায় শুঁটকি শুকানোর কোনো অনুমতি নেই। বিষয়টি দ্রুত খুঁজে বের করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ কাউসার হামিদ বলেন, জনস্বাস্থ্য ও পরিবেশের ক্ষতি হয় এমন কার্যক্রম কোনোভাবেই চলতে দেওয়া যাবে না। খুব শিগগিরই অভিযান পরিচালনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ সময়: ১২:৩০:১৫ ● ১৯০ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ