অসুস্থ শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার ঘটনায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

হোম » বরিশাল » অসুস্থ শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার ঘটনায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা
বৃহস্পতিবার ● ১৫ অক্টোবর ২০২৬


 

অসুস্থ শিশুকে মায়ের জিম্মায় দেওয়ার ঘটনায় ওসিসহ ৭ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বানারীপাড়া (বরিশাল)

 

বরিশালের বানারীপাড়ায় অসুস্থ দুই বছর আট মাস বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করে চিকিৎসা করানো এবং মায়ের জিম্মায় দেওয়ার ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুজিবর রহমান, উপপরিদর্শক (এসআই) মো. জাহিদসহ সাত পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা হয়েছে। মামলার অভিযোগকে অসত্য ও ভিত্তিহীন দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তারা।

 

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার বরিশালের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি আদালতে মামলাটি করেন শিশুটির বাবা রাজমিস্ত্রি জালিছ মাহমুদ। মামলায় পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে মারধরসহ বিভিন্ন অভিযোগ আনা হয়েছে। আদালতের বিচারক সৈয়দ আবিদুল হক মামলাটি তদন্ত করে প্রতিবেদন দিতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিয়েছেন।

 

অনুসন্ধানে জানা যায়, গত সোমবার (১২ অক্টোবর) বানারীপাড়া থানায় ওসির কক্ষে স্থানীয় ইউপি সদস্য আবু তুর্কি টুলু, নাগরিক উদ্যোগের নারীনেত্রী পরিভানু, জালিছ মাহমুদ ও তাঁর মা-বাবা, গণমাধ্যমকর্মীসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে শিশুটিকে তার মা পপি খানমের জিম্মায় দেওয়া হয়। এর আগে অসুস্থ শিশুটিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা করানো হয়।

 

বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, শিশুটির বাবা মাঝেমধ্যে মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন। এতে বাবা-মায়ের সঙ্গে শিশুটির যোগাযোগ বজায় রাখার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়।

 

জানা গেছে, দাম্পত্য কলহের জেরে বিচ্ছেদের পর শিশুটিকে নিজেদের কাছে রাখা নিয়ে তার বাবা-মায়ের মধ্যে বিরোধ দেখা দেয়। দীর্ঘদিন মেয়েটি বাবার কাছে থাকায় তাকে ফিরে পেতে বারবার চেষ্টা করেন মা পপি খানম। তবে চেষ্টা করেও মেয়েকে নিজের কাছে নিতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাঁকে হুমকি-ধমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।

 

শিশুটি অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং যথাযথ চিকিৎসা পাচ্ছে না, এমন অভিযোগে পপি খানম থানার দ্বারস্থ হন। তাঁর লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ শিশুটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মধ্যস্থতায় মায়ের জিম্মায় দেয়।

 

বানারীপাড়া থানার ওসি মো. মুজিবর রহমান বলেন, মামলায় আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ অসত্য। মানবিক বিবেচনায় দুই বছর আট মাস বয়সী শিশুটিকে হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়ে আত্মীয়স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে তার মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। বাবার সঙ্গে শিশুটির নির্বিঘ্ন যোগাযোগ থাকবে। বাবা যখন চাইবেন, মেয়েকে নিজের কাছে রাখতে পারবেন।

 

এসআই মো. জাহিদ বলেন, পপি খানমের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জালিছ মাহমুদকে থানায় ডেকে আনা হয়। পরে ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের উপস্থিতিতে আলোচনার মাধ্যমে শিশুটিকে মায়ের জিম্মায় দেওয়া হয়। মামলার বাদীকে কোনো মারধর করা হয়নি বলেও দাবি করেন তিনি।

 

পুলিশ কর্মকর্তাদের দাবি, তাঁদের হয়রানি করা এবং পেশাগত ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার উদ্দেশ্যে মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগে মামলাটি করা হয়েছে।

 

এদিকে, এ ঘটনা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। ওসির ওপর কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তির ক্ষোভ থেকে মামলাটি হয়ে থাকতে পারে বলে এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:২৬:৩৩ ● ২১ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ