
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, আগৈলঝাড়া (বরিশাল)
বরিশালের আগৈলঝাড়ায় উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে পোস্টমাস্টার না থাকায় গত ১৫ দিন ধরে আমানতকারীদের টাকা জমা ও উত্তোলন বন্ধ রয়েছে। এতে জরুরি প্রয়োজনে টাকা তুলতে না পেরে ভোগান্তিতে পড়েছেন গ্রাহকেরা। শারদীয় দুর্গাপূজার আগে এ পরিস্থিতিতে ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে সেবা গ্রহীতাদের মধ্যে।
জানা গেছে, আগৈলঝাড়া উপজেলা সদর পোস্ট অফিসের পোস্টমাস্টার মো. রাশেদ হাসান গত ৩০ সেপ্টেম্বর পদ ছেড়ে অন্যত্র চাকরিতে যোগ দেন। এরপর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পোস্ট অফিসের পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিনকে অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে তিনি পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি চিঠিপত্র বিতরণের কাজও করছেন। ফলে পোস্ট অফিসের নিয়মিত সেবা ব্যাহত হচ্ছে।
বর্তমানে সাধারণ ও মেয়াদি হিসাবের লেনদেন বন্ধ থাকায় গ্রাহকেরা টাকা জমা দিতে পারছেন না, তুলতেও পারছেন না। একই সঙ্গে একাধিকবার পোস্ট অফিসে গিয়েও জীবনবিমার মাসিক কিস্তি জমা দিতে না পারার অভিযোগ করেছেন সেবা গ্রহীতারা।
গত সোমবার সরেজমিনে দেখা যায়, পোস্টমাস্টারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা মো. মহিউদ্দিন কিছু সময় অফিসের কাজ করার পর চিঠিপত্র বিতরণে বেরিয়ে যান। উপজেলা সদরের সরকারি দপ্তর, স্কুল-কলেজ, থানা, আগৈলঝাড়া বাজার ও আশপাশের গ্রামে চিঠি পৌঁছে দিতে তাঁর প্রতিদিন চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।
এ সময় পোস্ট অফিসে আসা সাধারণ গ্রাহক ও আমানতকারীরা তাঁকে না পেয়ে ফিরে যাচ্ছেন। অফিসে থাকা মেইল ক্যারিয়ার কাম প্যাকার এনায়েত হোসেন ও নৈশপ্রহরী মো. শাহ আলম গ্রাহকদের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করলেও পোস্টমাস্টারের অনুপস্থিতিতে প্রয়োজনীয় কাজ সম্পন্ন করতে পারছেন না।
পোস্ট অফিস সূত্রে জানা গেছে, উপজেলা সদর পোস্ট অফিসে মোট ১০টি পদ রয়েছে। এর মধ্যে একজন পোস্টমাস্টার, দুজন পোস্টাল অপারেটর, দুজন পোস্টম্যান, দুজন রানার, একজন প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার, একজন নৈশপ্রহরী ও একজন ঝাড়ুদার রয়েছেন। বর্তমানে একজন পোস্টম্যান, একজন প্যাকার কাম মেইল ক্যারিয়ার, একজন রানার ও একজন নৈশপ্রহরী কর্মরত আছেন। বাকি ছয়টি পদ শূন্য রয়েছে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক আমানতকারী বলেন, ‘জরুরি প্রয়োজনে নিজের জমানো টাকা তুলতে পোস্ট অফিসে এসেও পারছি না। পোস্টমাস্টার না থাকায় সময়মতো টাকা পাচ্ছি না।’
পোস্টমাস্টারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিন বলেন, ‘৩০ সেপ্টেম্বর পোস্টমাস্টার চলে যাওয়ার পর আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। আমি পোস্টমাস্টারের কাজ ভালো বুঝি না। টাকা-পয়সার বিষয়, তাই ভয়ে দায়িত্ব নিতেও চাচ্ছিলাম না।’
বরিশালের পোস্ট অফিস পরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন বলেন, আগৈলঝাড়া পোস্ট অফিসে সঞ্চয় হিসাবের অনেক কাজ রয়েছে। পোস্টম্যান মো. মহিউদ্দিন পোস্টমাস্টারের দায়িত্ব ভালোভাবে বোঝেন না। তাঁকে দিয়ে এসব কাজ করানো সম্ভব হচ্ছে না। পোস্টমাস্টার চাকরি ছেড়ে চলে যাওয়ায় সাময়িক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বরিশাল পোস্টমাস্টার ডেপুটি জেনারেল নাঈম ইবনে রহমানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদেবার্তা পাঠানো হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।