বরগুনায় জাগো নারীর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেড়িবাঁধে দুই মাসেই ধস

হোম » বরগুনা » বরগুনায় জাগো নারীর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেড়িবাঁধে দুই মাসেই ধস
সোমবার ● ৫ অক্টোবর ২০২৬


 

বরগুনায় জাগো নারীর ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার বেড়িবাঁধে দুই মাসেই ধস

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনা সদর উপজেলার পোটকাখালীতে বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির (ডব্লিউএফপি) বরাদ্দের ১ কোটি ৪০ লাখ টাকায় নির্মিত বেড়িবাঁধে কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই ধস নেমেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকল্পের এক-তৃতীয়াংশ কাজও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নকশা অনুযায়ী দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও রাস্তার পাশ থেকে মাটি কাটায় বাঁধ দুর্বল হয়ে ধসে পড়েছে বলে অভিযোগ তাঁদের।

 

এদিকে বাঁধ নির্মাণের বাস্তবায়ন ও তদারকির দায়িত্ব নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেখা দিয়েছে। এলজিইডি বলছে, তারা জাগো নারীর কোনো সহায়তা নেয়নি। জাগো নারী বলছে, তারা শুধু অর্থপ্রাপ্তির মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে এবং প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে ঢলুয়া ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি। তবে কমিটির সদস্যদের দাবি, বাস্তবে কাজ করেছে জাগো নারী এবং তারাই তদারকি করেছে।

 

ফলে ১ কোটি ৪০ লাখ টাকার এই প্রকল্পে কাজ করেছে কে, তদারকি করেছে কে এবং দায় নেবে কে - এ প্রশ্নই এখন সামনে এসেছে।

 

পোটকাখালী এলাকার বাসিন্দা মিল্টন মেম্বার বলেন, প্রকল্পের বড় অংশের কাজই হয়নি। এক-তৃতীয়াংশ কাজও সঠিকভাবে বাস্তবায়ন করা হয়নি। নকশা অনুযায়ী প্রায় ৪০ ফুট দূর থেকে মাটি এনে বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও রাস্তার পাশ থেকে মাটি কাটা হয়েছে। এতে বাঁধের পাশের মাটি দুর্বল হয়ে যায় এবং কাজ শেষ হওয়ার দুই মাসের মধ্যেই বাঁধে ধস নামে।

 

বরগুনা এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ‘আমাদের সাপোর্ট জাগো নারী নেয়নি।’

 

জাগো নারীর প্রধান নির্বাহী হোসনে আরা হাসি বলেন, ‘আমরা শুধু অর্থপ্রাপ্তির মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছি। কাজটি বাস্তবায়ন করেছে ঢলুয়া ইউনিয়ন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটি।’

 

তবে কমিটির সদস্যদের দাবি, প্রকল্পের কাজ বাস্তবায়ন করেছে জাগো নারী। তাঁরা শুধু অর্থ ছাড় করেছেন এবং কাজের তদারকিও করেছে জাগো নারী।

 

স্থানীয়দের প্রশ্ন, নকশায় ত্রুটি থাকলে কাজ শুরুর আগে তা ধরা পড়েনি কেন? আর নকশা সঠিক হলে কাজ শেষ হওয়ার মাত্র দুই মাসের মধ্যে বাঁধ ধসে পড়ল কীভাবে? তাঁদের আরও প্রশ্ন, একটি অনভিজ্ঞ উন্নয়ন সংস্থা কীভাবে এত বড় প্রকল্পের কাজ পেল।

 

প্রকল্পে ৬৫০ মিটার বাঁধ নির্মাণের কথা থাকলেও বাস্তবে ৬২৮ মিটার কাজ করা হয়েছে বলেও জানা গেছে।

 

এ বিষয়ে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ আজিজ।

 

স্থানীয়দের দাবি, প্রকল্পের বরাদ্দ, নকশা, মাটি সংগ্রহ, কাজের পরিমাণ, নির্মাণমান এবং তদারকির বিষয়টি তদন্ত করা হোক। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত সংস্কার করা না হলে জোয়ার-জলোচ্ছ্বাস ও নদীভাঙনে বাঁধের আরও অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এতে ঝুঁকিতে পড়তে পারে আশপাশের বসতবাড়ি ও যোগাযোগ ব্যবস্থা।

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৩৯:৪৭ ● ২৪ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ