
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা
বরগুনা সদর উপজেলার দক্ষিণ মনসাতলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এক শিশু শিক্ষার্থীকে ডাব পাড়তে নারকেলগাছে ওঠানোর অভিযোগ উঠেছে শিক্ষকের বিরুদ্ধে। গাছ থেকে পড়ে দুর্জয় রায় (১০) নামে ওই শিক্ষার্থী গুরুতর আহত হয়েছে। তার একটি পা ভেঙে গেছে। মাথা ও মুখমণ্ডলেও আঘাত পেয়েছে সে। বর্তমানে বরিশালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
ঘটনাটি ঘটে গত বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) দুপুরে। তবে বিষয়টি জানাজানি হয় রবিবার (৪ অক্টোবর)। এরপর বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। অনেক অভিভাবক সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করে দিয়েছেন। এতে বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও কমে গেছে।
আহত দুর্জয় সদর উপজেলার গৌরিচন্না ইউনিয়নের ভূতমারা গ্রামের বিপুল রায়ের ছেলে।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় শিফটের পাঠদান শুরুর কিছুক্ষণ পর বিদ্যালয়ের একটি নারকেলগাছ থেকে পড়ে যায় দুর্জয়। শিক্ষার্থীদের চিৎকার শুনে সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়া তাকে কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। তখন তার নাক-মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছিল।
পরে দ্রুত তাকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশালে পাঠানো হয়। বর্তমানে একটি বেসরকারি চিকিৎসাকেন্দ্রে তার চিকিৎসা চলছে। পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রবিবার (৪ অক্টোবর) তার পায়ে অস্ত্রোপচার করা হয়েছে।
আহত শিক্ষার্থীর বাবা বিপুল রায় অভিযোগ করে বলেন, বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা তাঁর ছেলেকে ডাব পাড়ার জন্য গাছে উঠিয়েছিলেন। গাছ থেকে পড়ে তার পা ভেঙে গেছে। এখনো সে প্রচণ্ড যন্ত্রণায় রয়েছে। তার চোখেও সমস্যা হয়েছে।
স্থানীয় অভিভাবক দিলীপ শিকদার বলেন, ‘আমরা সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাই পড়াশোনা শেখার জন্য। শিক্ষকেরা যদি তাদের দিয়ে ডাব পাড়ানোর জন্য গাছে ওঠান, সেটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার না হওয়া পর্যন্ত সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠাবেন না বলেও জানান তিনি।
তবে শিক্ষার্থীকে কে গাছে উঠতে বলেছিলেন, তা জানেন না বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোসা. আসমা আক্তার ডেইজি। তিনি বলেন, বৃহস্পতিবার দিবা শিফটের পাঠদান শুরুর সময় সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার দুর্জয়কে কোলে করে বিদ্যালয়ে নিয়ে আসেন। তখন তার নাক দিয়ে অঝোরে রক্ত পড়ছিল।
আসমা আক্তার ডেইজি আরও বলেন, ঘটনার পর রবিবার বিদ্যালয়ে অর্ধেকেরও কম শিক্ষার্থী উপস্থিত হয়েছে। বিদ্যালয়ের শিক্ষকেরা আহত শিক্ষার্থীর চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন।
অভিযোগের বিষয়ে সহকারী শিক্ষক আবদুল জব্বার মিয়ার বক্তব্য জানতে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর ফোন বন্ধ পাওয়া যায়।
বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ৩৫৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তবে ঘটনার পর শিক্ষার্থীদের উপস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে বলে বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবু জাফর মো. ছালেহ বলেন, নারকেলগাছ থেকে পড়ে এক শিক্ষার্থীর পা ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি শুনেছি। উপজেলা শিক্ষা অফিসকে ঘটনাটি তদন্ত করে লিখিত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।