
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কাউখালী (পিরোজপুর)
পিরোজপুরের কাউখালীতে নিজ ঘর থেকে জেসমিন বেগম (৫০) নামে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে সন্দেহ করছে পুলিশ। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
রবিবার (৪ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শিয়ালকাঠী ইউনিয়নের শিয়ালকাঠী গ্রামের বান্দাঘাটা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিহত জেসমিন বেগম ওই গ্রামের বেলতলা এলাকার বাসিন্দা এবং অবসরপ্রাপ্ত পুলিশ কনস্টেবল প্রয়াত কেরামত আলীর স্ত্রী। তিনি একতলা ওই বাড়িতে মেয়েকে নিয়ে বসবাস করতেন। ঘটনার সময় তার মেয়ে বড় বোনের বাড়িতে খুলনায় বেড়াতে ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, রবিবার সকালে পাশের বাড়ির মাহাফুজ সুপারি সংগ্রহ করতে জেসমিনের বাড়িতে যান। কয়েকবার ডাকাডাকি করেও কোনো সাড়া না পেয়ে বাড়ির পেছনে গিয়ে খোলা দরজা দেখতে পান। পরে ঘরে ঢুকে জেসমিনকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়দের জানান। খবর পেয়ে তারা পুলিশে খবর দেন।
কাউখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন জানান, কীভাবে ঘটনাটি ঘটেছে তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। কখন তার মৃত্যু হয়েছে, সেটিও তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হবে।
পুলিশ জানায়, বাড়ির ভেতরের জিনিসপত্র এলোমেলো অবস্থায় পাওয়া গেছে। মূল্যবান জিনিসপত্রের সন্ধানে ঘর তছনছ করা হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে নগদ টাকা বা কোনো মূল্যবান সামগ্রী খোয়া গেছে কি না, তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে জেসমিনের শরীরে বাইরে থেকে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। তাকে শ্বাসরোধ করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছে পুলিশ।
ঘটনাস্থলে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের একটি দল গিয়ে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে। দুপুরে পিরোজপুরের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান এবং নেছারাবাদ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার প্রণয় রায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক বা গ্রেপ্তার করা হয়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত চলছে।