কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন, স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মাঝে

হোম » পটুয়াখালী » কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন, স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মাঝে
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬


 

কলাপাড়ায় স্বনির্ভর খাল পুনঃখনন, স্বস্তি ফিরেছে কৃষকের মাঝে

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, কলাপাড়া (পটুয়াখালী)

 

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বালিয়াতলী ও মিঠাগঞ্জ ইউনিয়নের মধ্য দিয়ে বয়ে যাওয়া হাড়িপাড়া থেকে বৌদ্ধপাড়া পর্যন্ত স্বনির্ভর খালের পুনঃখনন কাজ শেষ হয়েছে। দীর্ঘদিন পর খালে পানির প্রবাহ ফিরতে শুরু করায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় কৃষকদের মাঝে।

 

প্রায় ৪৫ বছর পর প্রাণ ফিরে পেয়েছে মৃতপ্রায় খালটি। খালে আবারও পানির প্রবাহ শুরু হওয়ায় নতুন করে আশার আলো দেখছেন দুই ইউনিয়নের কৃষকরা। একই সঙ্গে বালিয়াতলী বাজারসহ আশপাশের বাণিজ্যিক কেন্দ্রগুলোতে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।

 

খালের খনন শেষে দুই পাড়ে ফলদ ও বনজ বৃক্ষ রোপণ করা হয়েছে। পাশাপাশি লাল-সবুজ রঙের প্লাস্টিকের বেড়া দিয়ে খালপাড় দৃষ্টিনন্দন করা হয়েছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, খনন করা খালের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৪৫০ মিটার। খালের উপরিভাগের প্রস্থ ২২ মিটার এবং নিচের অংশের প্রস্থ ১২ মিটার। খাল পুনঃখননে মোট ব্যয় হয়েছে ১ কোটি ১৪ লাখ ৫ হাজার ২৭৯ টাকা।

 

স্থানীয় জ্যেষ্ঠ বাসিন্দারা জানান, ১৯৮১ সালে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। দীর্ঘদিন পর খালটি দখল, দূষণ ও পলি জমে ভরাট হয়ে যায়। ফলে শুষ্ক মৌসুমে মিঠা পানির অভাবে দুই ইউনিয়নের প্রায় ৫ হাজার একর জমি অনাবাদি পড়ে থাকত। লবণ পানিতে মারা যেত শত শত হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু। এতে কর্মহীন হয়ে পড়তেন কৃষকরা।

 

স্থানীয়রা বলছেন, খালটি পুনঃখননের ফলে কৃষিতে আবারও গতি ফিরবে। এতে কৃষকের মুখে হাসি ফুটেছে।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. মোকছেদুল আলম বলেন, ‘শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান পটুয়াখালীর কলাপাড়া সফরে এসে এ স্বনির্ভর খালটি খনন করেছিলেন। আমরা খালের ১ হাজার ৪৫০ মিটার অংশের পুনঃখনন কাজ বাস্তবায়ন করেছি। বাকি অংশের খনন কাজ করার জন্য এমপি মহোদয় ডিও লেটার দিয়েছেন। বরাদ্দ পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা হবে।’

 

মিঠাগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন খান দুলাল ও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. মনিবর রহমান খন্দকার বলেন, দীর্ঘদিন ধরে এলাকার মানুষ এ খাল পুনঃখননের দাবি জানিয়ে আসছিলেন। কিন্তু বিগত ১৫ বছরে খাল খননের পরিবর্তে উল্টো দখল হয়েছে।

 

স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ্ব এবিএম মোশাররফ হোসেন বলেন, ‘বর্তমান সরকার কৃষিতে বৈপ্লবিক পরিবর্তনের জন্য নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করে চলছে। আমার নির্বাচনী এলাকার কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে আরও কিছু খাল পুনঃখননের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ সময়: ১৫:৫৯:১৯ ● ১২ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ