
সাগরকন্যা ইসলামী ডেস্ক
আমাদের সমাজে হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের জীবন নানা বৈচিত্র্য ও জটিলতার মধ্য দিয়ে অতিবাহিত হয়। ইসলাম একটি পূর্ণাঙ্গ জীবনব্যবস্থা। মানবজীবনের অন্যান্য বিষয়ের মতো এ ক্ষেত্রেও শরিয়তে রয়েছে নির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। ইবাদত-বন্দেগি থেকে সামাজিক জীবন- সব ক্ষেত্রেই তাদের পরিচয়, অধিকার ও মর্যাদা সম্পর্কে ইসলামের নিজস্ব বিধান রয়েছে।
বিশেষ করে হিজড়াদের ইমামতি ও নামাজের শুদ্ধতার বিষয়টি তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য ও শরিয়তি পরিচয়ের সঙ্গে সম্পর্কিত।
হিজড়ার তিন শ্রেণি
ইসলামি শরিয়তের দৃষ্টিতে হিজড়াদের মূলত তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
পুরুষ হিজড়া:
যাদের মধ্যে পুরুষের বৈশিষ্ট্য প্রবল, শরিয়তে তাদের পুরুষ হিসেবে গণ্য করা হয়। দাড়ি-গোঁফ গজানো, নারী সহবাসে সক্ষমতা বা স্বপ্নদোষ হওয়া এর অন্যতম লক্ষণ। তাদের ক্ষেত্রে পুরুষের বিধান প্রযোজ্য। ফলে তাদের ইমামতি শুদ্ধ, নারীর সঙ্গে বিবাহ বৈধ এবং পুরুষের সঙ্গে বিবাহ অবৈধ। উত্তরাধিকার বণ্টনেও তাদের পুরুষ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
নারী হিজড়া:
যাদের মধ্যে নারীর বৈশিষ্ট্য প্রবল, তাদের নারী হিসেবে গণ্য করা হয়। স্তন বিকশিত হওয়া, ঋতুস্রাব হওয়া, সহবাসের উপযোগিতা ও গর্ভধারণের সক্ষমতা এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য। তাদের ক্ষেত্রে নারীদের বিধান প্রযোজ্য। পুরুষের সঙ্গে বিবাহ বৈধ এবং নারীর সঙ্গে বিবাহ অবৈধ। পুরুষের সঙ্গে পর্দা করা এবং উত্তরাধিকার বণ্টনে নারী হিসেবে বিবেচিত হওয়ার বিধানও প্রযোজ্য।
জটিল হিজড়া বা খুনসায়ে মুশকিলা:
যাদের মধ্যে নারী বা পুরুষের কোনো বৈশিষ্ট্য স্পষ্টভাবে চিহ্নিত করা যায় না অথবা উভয় ধরনের বৈশিষ্ট্য সমানভাবে বিদ্যমান থাকে, তাদের খুনসায়ে মুশকিলা বলা হয়। এ ক্ষেত্রে পরিচয় ও বিধান নির্ধারণে বিষয়টি জটিল হয়ে পড়ে।
মানবমর্যাদায় সবাই সমান
শারীরিক বৈশিষ্ট্যের ভিন্নতার কারণে কোনো মানুষ তার মৌলিক মানবিক মর্যাদা হারায় না। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আর আমি তো আদমসন্তানকে সম্মান দিয়েছি এবং তাদের পানিতে-স্থলে বাহনে চড়িয়েছি এবং তাদের উত্তম রিজিক দান করেছি।’ (সুরা আল-ইসরা: ৭০)
মানুষের মর্যাদার প্রকৃত মাপকাঠি বংশ, জাতি কিংবা বাহ্যিক বৈশিষ্ট্য নয়; তাকওয়া। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমাদের মধ্যে আল্লাহর কাছে সেই ব্যক্তিই অধিক মর্যাদাপন্ন যে তোমাদের মধ্যে বেশি মুত্তাকি।’ (সুরা আল-হুজুরাত: ১৩)
অতএব, হিজড়া বা তৃতীয় লিঙ্গের মানুষও সমাজেরই অংশ। তাদের শারীরিক বৈশিষ্ট্য বা জন্মগত জটিলতার কারণে মানবিক সম্মান ও মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করার সুযোগ নেই। একই সঙ্গে ইবাদত ও সামাজিক জীবনে শরিয়তের বিধান যথাযথভাবে মেনে চলার সুযোগ তৈরি করাও জরুরি।
ইসলামের দৃষ্টিতে মানুষের মর্যাদা রক্ষার পাশাপাশি প্রত্যেকের জন্য তার প্রযোজ্য শরিয়তি বিধান জানা ও পালন করা গুরুত্বপূর্ণ। এ বিষয়ে সঠিক জ্ঞান অর্জন, অজ্ঞতা ও অবহেলা দূর করা এবং মানবিক আচরণ নিশ্চিত করা সমাজের সচেতন মানুষের দায়িত্ব।
আল্লাহ তাআলা আমাদের সবাইকে শরিয়তের সঠিক জ্ঞান অর্জন এবং সে অনুযায়ী আমল করার তৌফিক দান করুন। আমিন।