বরগুনায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারে নিন্দার ঝড়, চাঁদাবাজি মামলায় ডোপ টেস্ট!

হোম » গণমাধ্যম » বরগুনায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারে নিন্দার ঝড়, চাঁদাবাজি মামলায় ডোপ টেস্ট!
শুক্রবার ● ২ অক্টোবর ২০২৬


 

বরগুনায় সাংবাদিক গ্রেপ্তারে নিন্দার ঝড়, চাঁদাবাজি মামলায় ডোপ টেস্ট!

সাগরকন্যা প্রতিবেদক, বরগুনা

 

বরগুনায় চাঁদাবাজির মামলায় সাংবাদিক মো. আসাদুল হক সবুজকে গ্রেপ্তার এবং দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে হাজির করার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। একই সঙ্গে গ্রেপ্তারের পর তাঁকে ডোপ টেস্ট করানো নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। কারণ, যে মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই এজাহারে মাদক সেবন, বহন বা মাদক-সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ নেই। পরে করা ডোপ টেস্টের প্রতিবেদনে তাঁর শরীরে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

আসাদুল হক সবুজ দৈনিক কালবেলার বরগুনা প্রতিনিধি। তিনি বরগুনা সদর উপজেলার গৌরীচন্না ইউনিয়নের ভূতমারা এলাকার বাসিন্দা।

 

পুলিশ ও মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১২টার দিকে নিজ বাড়ির সামনে থেকে আসাদুল হককে গ্রেপ্তার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। পরদিন বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) তাঁকে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ হাজির করা হয়। আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 

আদালতে নেওয়ার সময় তাঁর দুই হাত পেছনে নিয়ে হাতকড়া পরানো ছিল। এর আগে সদর থানা পুলিশ তাঁকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে ডোপ টেস্ট করায়। পরীক্ষার প্রতিবেদনে মাদকের কোনো অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি।

 

আসাদুলের বাবা জিয়াউল হক আবু বলেন, ‘ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমার ছেলেকে মামলায় আসামি করা হয়েছে। কোনো মাদকের অভিযোগ না থাকা সত্ত্বেও কেন তার ডোপ টেস্ট করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না। পরীক্ষার ফলও নেগেটিভ এসেছে। এতে আমাদের পরিবারকে সামাজিকভাবে হেয় করা হয়েছে। তাকে পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়াও অপমানজনক।’

 

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ সেপ্টেম্বর স্বপন কুমার ঘোষ নামে এক ব্যক্তি আসাদুলসহ ১৩ জনের বিরুদ্ধে বরগুনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা করেন। মামলায় এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি এবং জমিতে অনধিকার প্রবেশ করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতিসাধনের অভিযোগ আনা হয়।

 

আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে বরগুনা সদর থানাকে এজাহার হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। পরে ১৬ সেপ্টেম্বর মামলাটি থানায় এজাহারভুক্ত হয়।

 

এজাহারে বাদী অভিযোগ করেন, ১১ সেপ্টেম্বর সকাল ৯টার দিকে আসামিরা তাঁর মালিকানাধীন ভূতমারা জমিতে প্লট তৈরির কাজে বাধা দেন এবং এক কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। চাঁদার টাকা না দেওয়ায় ওই দিন রাতেই স্কেভেটর দিয়ে প্লট খনন করে প্রায় ৫০ লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়।

 

তবে মামলার আরেক আসামি অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. হারুন অর রশিদ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বাদীপক্ষের সঙ্গে স্থানীয় বিপ্লব বিশ্বাস গংদের দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে। ওই বিরোধ মীমাংসার জন্য আয়োজিত সালিশে তিনি একজন সালিশ ছিলেন। অথচ তাকেও মামলায় আসামি করা হয়েছে।

 

সাংবাদিক আসাদুলকে ডোপ টেস্ট করানো এবং পেছনে হাতকড়া পরিয়ে আদালতে নেওয়ার ঘটনায় বরগুনা সাংবাদিক ইউনিয়ন, বরগুনা রিপোর্টার্স ইউনিটিসহ একাধিক গণমাধ্যমকর্মী প্রতিবাদ জানিয়েছেন। সংগঠনগুলোর নেতারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেছেন।

 

ডোপ টেস্ট করানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাহাদৎ মো. হাচনাইন পারভেজ। তিনি বলেন, আসামি গ্রেপ্তারের পর আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ডোপ টেস্ট করানো হয়েছে। তবে হাতকড়া পরানোর বিষয়টি তাঁর জানা নেই।

বাংলাদেশ সময়: ১০:৫০:৫০ ● ৩৬ বার পঠিত




পাঠকের মন্তব্য

(মতামতের জন্যে সম্পাদক দায়ী নয়।)

আর্কাইভ