
সাগরকন্যা প্রতিবেদক, মনপুরা (ভোলা)
ভোলার মনপুরায় হাঁসে ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে ৬ বছরের এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগ উঠেছে এক পান ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে। শিশুটিকে কাউকে বিষয়টি জানালে মেরে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেছেন শিশুটির বাবা।
রবিবার দুপুর ২টার দিকে উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে ধানখেতসংলগ্ন একটি পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয়ভাবে সমাধানের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
অভিযুক্ত মাফু বেপারী উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজারে পান ব্যবসা করেন। তিনি ওই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা কাশেম বেপারীর ছেলে।
শিশুটির বাবা ইব্রাহিম একটি হোটেলে চাকরি করেন। পাশাপাশি তিনি বাড়িতে হাঁস পালন করেন। বাড়ির পাশের ধানখেতটির মালিক মাফু বেপারী। ইব্রাহিমের দাবি, হাঁস ধানখেতে গিয়ে ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে মাফু বেপারীর সঙ্গে তাদের বিরোধের সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে মাফু বেপারী ধানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২ হাজার টাকা দাবি করেন।
ইব্রাহিম অভিযোগ করেন, রবিবার আবার হাঁস ধানখেতে গেলে মাফু বেপারী ক্ষিপ্ত হয়ে তার ৬ বছরের শিশুকন্যাকে ডেকে একটি নির্জন পরিত্যক্ত বাড়ির পেছনে নিয়ে যান। সেখানে শিশুটিকে যৌন হয়রানি করা হয়। পরে কাউকে বিষয়টি জানালে মেরে পুকুরের পানিতে ফেলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও শিশুটির পরিবারের অভিযোগ।
শিশুটির বাবা ইব্রাহিম বলেন, ‘হাঁসে ধান খাওয়াকে কেন্দ্র করে আমার অবুঝ শিশুর সঙ্গে খারাপ কাজ করা হয়েছে। বিষয়টি তার পরিবার ও বড় ভাইকে জানিয়েছি। আমি আমার সন্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনার বিচার চাই।’
তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাফু বেপারী। তিনি বলেন, ‘হাঁস জমির বেশির ভাগ ধান খেয়ে ফেলেছে। ধানের ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১২ হাজার টাকা দাবি করেছি। তবে শিশুটির সঙ্গে এমন কোনো ঘটনা ঘটেনি। অভিযোগটি মিথ্যা।’
মাফু বেপারীর বড় ভাই ব্যবসায়ী হাজী ফারুক বলেন, ‘বিষয়টি স্থানীয়ভাবে বসে সমাধান করা হবে।’
মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাজাহারুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে থানায় লিখিত কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।